হুথিদের হামলায় বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অত্যাধুনিক অস্ত্রেও নিরাপদ নয় সৌদি আরব

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৬ পূর্বাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৮:২৮ পূর্বাহ্ন, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রতিরক্ষা খাতে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কাছ থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সংগ্রহ করেও বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও পাইপলাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষিত রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশটি।

গত সপ্তাহে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর এলাকায় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর আলোচনা

স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সৌদি আরব প্রতিরক্ষা খাতে ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। সামরিক খাতে বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যয়কারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটির হাতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা এবং যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের উন্নত সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে।

তারপরও সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হলেও একাধিক দিক থেকে হামলার ঝুঁকি রয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিতে হুথিদের ভয়াবহ হামলা

তিন দিক থেকে হামলার হুমকি

সৌদি আরবের পূর্ব দিক থেকে ইরান, উত্তর দিক থেকে ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং দক্ষিণ দিক থেকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে ইরান সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠিয়েছে। দক্ষিণে ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়ে কিংবা ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণব্যবস্থা ব্যবহার করে হুথিরা সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে শুধু রাজধানী রিয়াদ কিংবা একটি তেল শোধনাগার রক্ষা করলেই হচ্ছে না। দেশটির বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে থাকা বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা, পাইপলাইনসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে হচ্ছে।

স্বাধীন ওয়েবসাইটএর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আকাশপথে আসা হামলা শনাক্ত করা, কোন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করা হবে তা নির্ধারণ এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে থাকে খুব অল্প সময়।

সৌদি আরবের একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের ছোড়া অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে পারছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে কিছু হামলা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিদ্যমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কোথায় এবং কীভাবে মোতায়েন করা হবে, তা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

হামলার কৌশল বদলেছে হুথিরা

সৌদি প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে হুথিরা এখন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার ড্রোন একসঙ্গে ব্যবহার করছে। এই কৌশলের সঙ্গে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হামলার ধরনের মিল রয়েছে। রাশিয়াও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে একাধিক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলক নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়ায় রাডারে এগুলো শনাক্ত করা এবং গতিপথ অনুসরণ করা কঠিন হতে পারে। এ ছাড়া হুথিরা নতুন প্রজন্মের কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করেছে, যেগুলো উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।

কোনো একক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই সব ধরনের হামলা শতভাগ প্রতিহত করার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তবে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে বাইরের সহায়তার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

আট বছর আগে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ইয়েমেনে ইরানি উৎসের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, সামরিক সরঞ্জাম ও চালকবিহীন আকাশযান শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসব সরঞ্জাম ইয়েমেনে পৌঁছেছিল বলে তাঁদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দুই বছর আগে একই বিশেষজ্ঞ প্যানেল জানায়, বাইরের উৎস থেকে হুথিদের কাছে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর, আর্থিক সহায়তা এবং যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যাপ্তি নজিরবিহীন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের হাটেম-২ ও প্যালেস্টাইন-২ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গে ইরানের তৈরি অস্ত্রের মিল রয়েছে। এগুলো দ্রুতগতির এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়।

গত বছর ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে একটি হুথি ক্ষেপণাস্ত্র বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হানে। সে সময় বিশ্লেষক আমির বার শালোম সিএনএনকে বলেছিলেন, প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূর থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের এমন নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্য।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজেদ আল-নাজিলির দাবি, হুথিরা ইরানের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষার কিছু অস্ত্র পরিবর্তন করে বিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। গত মাসে তিনি জানান, এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ২৫ মিনিট পর্যন্ত চলাচল করতে পারে এবং তাপ শনাক্তকারী ব্যবস্থা ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু অনুসরণ করে।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও নিজস্ব লক্ষ্য হুথিদের

দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নেতৃত্বাধীন কথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে পরিচিত হুথিরা। হিজবুল্লাহ, হামাস ও ইরাকের কয়েকটি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী সাম্প্রতিক সংঘাতে দুর্বল হয়ে পড়লেও হুথিরা নিজেদের সামরিক অবস্থান শক্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তেহরানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির শেষকৃত্যে অংশ নিতে হুথিদের একটি প্রতিনিধিদলও পাঠানো হয়েছিল। তবে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও হুথিদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য রয়েছে।

২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক দুর্ভোগ তৈরি হয়। অর্থনৈতিক ও পরিবহন অবরোধের প্রভাবও অব্যাহত রয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার ঘোষণা দেয়। এর কিছুদিন পরই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে লোহিত সাগর উপকূলে সৌদি আরামকোর একটি তেল শোধনাগার ও কয়েকটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে সৌদি আরব যে বিমান হামলা চালাচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবের কাছে কয়েক শ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণও দাবি করছে তারা।

ইরান সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে আলোচনা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে তেহরান প্রস্তুত। এখানে ইয়েমেন বলতে হুথিদের বোঝানো হয়েছে।

হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি সোমবার দাবি করেন, সৌদি আরব মধ্যস্থতার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। তবে হুথিরা দুই সপ্তাহ ও এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে তিনি জানান।

আল-বুখাইতি বলেন, এবারের লড়াই আগের সংঘাতগুলোর মতো নয়। সময় যত গড়াবে, সংঘাতের পরিধি ও ক্ষয়ক্ষতি তত বাড়বে এবং এখন যে সমঝোতা সম্ভব, পরে তা কঠিন কিংবা অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

যুদ্ধ চালানো নাকি সমঝোতা, কঠিন সিদ্ধান্তে সৌদি আরব

হুথিদের সঙ্গে সংঘাত বাড়লেও সৌদি আরব স্বাভাবিক পরিস্থিতির ভাবমূর্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। গত সপ্তাহে দেশটির নাগরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিষয়ে মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এর আগে রিয়াদের বিমানবন্দরে ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে।

সিএনএনকে কয়েকজন রিয়াদবাসী জানিয়েছেন, পরে আবার সতর্কবার্তা পাঠানো শুরু হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ সোমবার তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথাও জানায়।

রিয়াদে বসবাসরত এক প্রবাসী সিএনএনকে জানান, চলতি সপ্তাহে তাঁর সন্তানদের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। আগের কয়েক দিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা না পাওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে সোমবার ফোনে সতর্কবার্তা কার্যকরভাবে পাওয়া যাচ্ছিল বলে জানান তিনি। বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে সপ্তাহান্তে সৌদি কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন ওই বাসিন্দা।

এখন সৌদি আরবকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। বিমানবন্দরে হামলায় এক ডজনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পর হুথিদের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া দেশটির জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, আরও ব্যাপক বিমান হামলা চালালে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি বাড়বে।

এ ধরনের পরিস্থিতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দেশটিকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পর্যটনের আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনাকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

ঝুঁকি শুধু তেলশিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ডেটা সেন্টার, লবণাক্ত পানি পরিশোধনাগার ও বিমানবন্দর সৌদি আরবের প্রযুক্তি খাত, পানির সরবরাহ এবং পর্যটন অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চলতি মাসের শেষ দিকে রিয়াদে যুবরাজের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগবিষয়ক আয়োজনেও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশটির পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। তবে চলতি সপ্তাহে রিয়াদে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কংগ্রেসে বড় বড় করপোরেশনের অংশগ্রহণে অনীহা দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

স্থল অভিযানেও সহজ সমাধান নেই

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে নিয়ে স্থল অভিযান চালিয়ে হুথিদের পরাজিত করা খুবই কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নেওয়া হুথিরা যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। গত মাসে তারা সরকারি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

গত বছর হুথিদের বিরুদ্ধে সাত সপ্তাহের বিমান হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হুথিরা লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা না করার বিষয়ে সম্মত হলেও ইয়েমেনে তাদের অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক মার্কিন রিপার ড্রোনও ভূপাতিত করে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাতেও হুথি নেতৃত্বকে পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। এসব হামলায় কয়েকজন কমান্ডার ও প্রযুক্তিবিদ নিহত হলেও গোষ্ঠীটির নেতৃত্ব টিকে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের সশস্ত্র সদস্যের সংখ্যা তিন লাখ ৫০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। সোমবার ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার জানায়, ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র তাইজকে ঘিরে ফেলেছে হুথিরা। শহরটি এখনো সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে সৌদি আরব

হুথিদের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক জোট গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সৌদি আরব। আঞ্চলিক মিত্ররা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তান সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে। মিশরও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের শুরুতে সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার মজুত কমে যাওয়ায় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের অস্ত্রভান্ডারেও ঘাটতি রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহে শিল্প খাতের সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি, যদিও সম্ভাবনাটি পুরোপুরি নাকচও করেননি।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মাইকেল র‍্যাটনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অনীহা থেকে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, সবচেয়ে কঠিন সময়ে দেশটি তার মিত্রকে পরিত্যাগ করেছে।

রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার আগে লেখা এক মন্তব্যে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত র‍্যাটনি বলেন, সৌদি আরব আক্রান্ত হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে তাদের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কূটনীতিতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কূটনীতি হয়তো নিখুঁত বা সন্তোষজনক হবে না, কিন্তু সংঘাত কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

এমন সমঝোতা হলে ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকার পাশাপাশি তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: সিএনএন