রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুলের স্ত্রী, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি পুলিশের

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ন, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদে মামলাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে সেই তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি শেষে মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। 

আরও পড়ুন: গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী কারাগারে

আদালতে দেওয়া পুলিশের আবেদনে বলা হয়, মাকছুদাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মামলাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য মামলার তদন্তে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। 

এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) একই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন আদালত। মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমান এখনো গ্রেপ্তার হননি বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: সাবেক সিইসি হাবিবুল আউয়ালের জামিন, স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। এতে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের প্রতিবেদনে মাকছুদার জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় গত ১৭ জুন গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়মের বিয়ে হয়। মামলাটির তদন্ত এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

এদিকে গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়। পরে তিনি ভিডিওতে থাকা তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বলে জানান। এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়। 

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্তে এখন মাকছুদার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।