আপিল বিভাগে বাগবিতণ্ডা: এজলাস ছাড়লেন প্রধান বিচারপতি
এক আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। পরে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে। শুনানির একপর্যায়ে আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন বার সভাপতি ব্যারিস্টার খোকন। এরপরই প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার বাদানুবাদ শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ছেড়ে যান।
আরও পড়ুন: সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ
পরে সাংবাদিকদের ব্যারিস্টার খোকন বলেন, তথ্য গোপনের অভিযোগে একজন আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে ওই জরিমানা মওকুফের অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের মতো মামলা শুনানি হচ্ছে না এবং এর প্রভাব আইনজীবীদের আয়ের ওপর পড়ছে বলে জানান তিনি।
বার সভাপতি বলেন, আগে ১১ জন বিচারপতির একটি বেঞ্চসহ মোট তিনটি বেঞ্চে মামলার শুনানি হতো। বর্তমানে একটি বেঞ্চ থাকায় কোনো মামলায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হলে সেটির শুনানিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। এমনকি চেম্বার জজের দেওয়া স্থগিতাদেশের কারণে কোনো কোনো মামলার শুনানি পেতে এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে হাসানুল হক ইনুর আপিল
নিজের একটি মামলার প্রসঙ্গ তুলে ব্যারিস্টার খোকন বলেন, ওই মামলায় বিচারক দোষী সাব্যস্ত করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের সাজা হতে পারে। অথচ আপিল বিভাগ মামলাটি এক বছর ধরে স্থগিত রেখেছে। বিষয়টি শুনানির জন্য তিনি চারবার চেম্বার জজের কাছে অনুরোধ করেও সুযোগ পাননি বলে জানান।
তার ভাষ্য, আপিল বিভাগে মামলার মেনশন করার সুযোগও নেই। কোনো মামলা আগে উপরে থাকার পর পরে নিচে নেমে গেলেও সেটি মেনশন করা যায় না। একটি বেঞ্চ থাকায় বিচারপ্রার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন এবং মামলার শুনানি না হওয়ায় আইনজীবীরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ব্যারিস্টার খোকন আরও বলেন, তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বিষয়গুলো তুলে ধরেছিলেন। তার বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এতটা প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, তা তিনি ভাবেননি। আইনজীবীদের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের সমস্যা প্রধান বিচারপতির কাছে তুলে ধরা তার দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, একই ঘটনায় একাধিক রিট মামলা করার কারণে তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে রিটকারী মো. নুর আলম এবং তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেন আপিল বিভাগ। মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানার অর্থ ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নুর আলমের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্য নিকাহ রেজিস্ট্রার মিজানুর রহমান মুরাদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অনীক আর হক, সিনিয়র আইনজীবী মো. শিশির মনির এবং আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত।





