জাতিসংঘ অধিবেশনে ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বিশ্বনেতাদের সমর্থন বাংলাদেশকে

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৩:৪৯ অপরাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্বের একাধিক প্রভাবশালী সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান ও আন্তর্জাতিক নেতারা। এ সময় তারা বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অধ্যাপক ইউনূসের হোটেল স্যুইটে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং নিজামী গঞ্জভি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার (NGIC)-এর সহ-সভাপতি ভায়রা ভিকে-ফ্রেইবার্গা-এর নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

আরও পড়ুন: জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত, দেশ-জাতির কল্যাণে বিশেষ দোয়া

এ ছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, স্লোভেনিয়া, সার্বিয়া, লাটভিয়া, গ্রিস, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্টরা, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চারজন সাবেক সভাপতি, কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, বিশ্বব্যাংকের সাবেক সহসভাপতি ও এনজিআইসি সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটসের সভাপতি কেরি কেনেডি, জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির নির্বাহী পরিচালক মেলানি ভেরভির এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

বক্তারা ইউনূসের নেতৃত্ব, তার দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান এবং বাংলাদেশের চলমান সংকট মোকাবেলায় তার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এক নেতা বলেন, “আমরা সম্পূর্ণভাবে আপনাদের পাশে আছি।” কেরি কেনেডি বলেন, “মানবাধিকার অগ্রগতিতে বাংলাদেশ যে সাফল্য অর্জন করেছে তা অসাধারণ।”

আরও পড়ুন: ঈদের জামাতে প্রধানমন্ত্রীর মাথায় টুপি পরিয়ে দিলেন খতিব

জর্জটাউন ইনস্টিটিউটের মেলানি ভেরভির জানান, প্রতিষ্ঠানটি শিগগিরই ‘জুলাই বিপ্লব’-কে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানাবে।

ইসমাইল সেরাগেলদিন বলেন, আপনারা আমাদের প্রয়োজন মনে করলে আমরা আছি।

অধ্যাপক ইউনূস এই সমর্থনে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আপনাদের সবাইকে একসঙ্গে আমাদের পাশে দাঁড়াতে দেখে আমি অভিভূত। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো ধ্বংসযজ্ঞ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, “জনগণ তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে। সীমিত সম্পদ থাকলেও তরুণ প্রজন্মের নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”

এছাড়া, তিনি আগামি ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ-ও উপস্থিত ছিলেন।