আইজিপির বক্তব্য সম্পর্কে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ব্যাখ্যা
সম্প্রতি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকির-এর এক অনুষ্ঠানে প্রদত্ত “পুলিশ সদস্যদের শতকরা ৯৯ ভাগই সৎ ও দায়িত্বশীল” বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে সৃষ্ট আলোচনার প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানায়, আইজিপির বক্তব্যটি মূলত বার্ষিক পরিসংখ্যান ও নির্দিষ্ট সময়ের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। গত চার বছর (২০২২–২০২৫) সময়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে প্রাপ্ত ও অনুসন্ধানে প্রেরিত মোট অভিযোগের সংখ্যা ৭,৮৮২টি। একই সময়ে বাংলাদেশ পুলিশের মোট সদস্য সংখ্যা ২,১৮,৫৫৪ জন। এ অনুযায়ী বার্ষিক গড় অভিযোগের সংখ্যা দাঁড়ায় ১,৯৭০.৫টি এবং অভিযোগে জড়িত হওয়ার হার প্রায় ০.৯০ শতাংশ।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ধানমণ্ডি ও গুলশান লেকের সংস্কার ও উন্নয়ন এবং এসটিপি-সংক্রান্ত বৈঠক
হেডকোয়ার্টার্সের ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, যেকোনো বৃহৎ সংস্থায় স্বল্পসংখ্যক সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা স্বাভাবিক। এটি বাহিনীর সামগ্রিক শৃঙ্খলা বা কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতারও একটি নির্দেশক।
অভিযোগের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সব অভিযোগই সরাসরি দুর্নীতি বা অসততার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। অনেক ক্ষেত্রেই পারিবারিক, আচরণগত বা প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতাজনিত বিষয়ও অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত থাকে। এসব বিষয় বাদ দিলে প্রকৃত অসততা বা দুর্নীতির হার আরও কমে আসে, যা আনুমানিকভাবে ০.৭০ শতাংশের নিচে।
আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জানাজায় অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আরও জানায়, প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার সদস্যের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র অংশের অনিয়ম বা ভুল আচরণের ঘটনা জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়মিতভাবে নিষ্ঠা ও দায়িত্বের সঙ্গে জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
আইজিপি তাঁর বক্তব্যে মূলত এ বাস্তব চিত্রই তুলে ধরেছেন বলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানায়।





