রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:১৩ পূর্বাহ্ন, ০৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৬:৫৯ অপরাহ্ন, ১২ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ (রোববার) ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।

মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হওয়ায় এটি দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ করে রায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে মামলাটি।

আরও পড়ুন: ডিভাইসের আসক্তি থেকে শিশু-কিশোরদের মাঠে ফেরাতে হবে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ৭ জুন দিন ধার্য করেন।

দ্রুতগতিতে সম্পন্ন বিচারিক কার্যক্রম

আরও পড়ুন: নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন ভেটিংয়ে, জুলাই থেকেই নতুন বেতন

গত ১৯ মে পল্লবীতে ঘটে শিশু রামিসা হত্যার ঘটনাটি। পরদিন ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং লাশ গুমের অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার চার দিনের মাথায় ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। একই দিন মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে আদালত তা আমলে নেন।

পরবর্তীতে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। এরপর ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু। তিনি আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করে দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ শুনানিতে সোহেল রানার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ বিবেচনার আবেদন জানান।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ঘটনাটির নৃশংসতা পুরো দেশকে নাড়া দিয়েছে। দ্রুত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যে ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন

মামলার নথি অনুযায়ী, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যান।

পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার মা আসামিদের কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই কক্ষের একটি বালতির ভেতর থেকে মাথা পাওয়া যায়।

ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।