জীবননগরে আউশ ধানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মাঠ জুড়ে রয়েছে পাঁকা আউশধান। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম ও ধানে রোগবালাই না হওয়ার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে। তবে নতুন ধান ঘরে তোলার সময় কৃষক-কৃষাণীর মুখে হাসি নেই।বাজারে ধানের কাঙ্খিত দাম না থাকায় কৃষকের হাসি মলিন হয়ে গেছে। বাজারে সবচেয়ে ভালো ধান বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকা থেকে ৯৮০ টাকা মণ। এতে কৃষকদের লাভ তো দুরের কথা উৎপাদন খরচই উঠছে না। প্রতি বিঘা জমিতে লোকসান গুণতে হচ্ছে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। বর্গা চাষী হলে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়বে।
জীবননগর উপজেলার ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে আউশ ধান পেঁকে সোনালী বর্ণ ধারন করেছে। কৃষকরা কোথাও ধান কাটছে, কোথাও মাড়ায় করছে আবার কোথাও ধান রোদে শুকিয়ে ঘরে তুলছে। কৃষকের পাশাপাশি কৃষাণীরাও ধান মাড়ায় কাজে অংশ নিয়েছে। তবে ধানের বাজার নিয়ে খুশি নন কৃষকরা। ধান উৎপাদনে বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের কাঙ্খিত দাম না পাওয়ার কারনে বিপাকে পড়েছেন কৃষক।
আরও পড়ুন: মাগুরায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক নিহত
উপজেলা উথলী গ্রামের হাসান আহম্মেদ নামের এক ধান চাষি বলেন, দেড় বিঘা জমিতে আউশ ধান চাষ করেছি। ধান কাটার উপযুক্ত হয়ে গেছে। সব কিছু মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধান মাড়ায় করে ঘরে তুলতে আরও ৫ হাজার টাকা খরচ হবে। জমিতে ২২-২৩ মন ধান হতে পারে। বর্তমান ধানের যে বাজার মূল্য শুনছি তাতে করে শুধুমাত্র উৎপাদন খরচ বাদ দিলে ৩ হাজার টাকার মত লোকসান হবে।
মৃগমারী গ্রামের মিনারুল ইসলাম নামে আরেক ধান চাষি বলেন, ১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে ১৫ মন ধান পেয়েছি। ধান চাষে মোট ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। নিজের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি তো বাদ দিলাম। এই আউশ ধান চাষ করতে গিয়ে উৎপাদন খরচই উঠছে না। এখন জমির মহাজনের ও সারের দোকানের টাকা কিভাবে দেবো?
আরও পড়ুন: নওগাঁয় হানিট্র্যাপে ফেলে শিক্ষককে জিম্মি, নারীসহ গ্রেফতার ৪
এদের মত অনেক চাষি এখন ধানের কাঙ্খিত দাম না পাওয়ার কারনে বিপাকে পড়েছেন। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে ধান চাষে আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
ধানের ব্যবসায়ীরা বলেন, জীবননগরে সবচেয়ে ভালো শুকনো ধান প্রতি মন ৯৫০ টাকা থেকে ৯৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ধানের চাহিদা একেবারেই কম। পুরাতন ধানই বিক্রি হচ্ছে না। তাই নতুন ধানের দামও কম। আমরা ধান কিনে বাইরে বিক্রি করতে পরছি না।
জীবননগর কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, এ উপজেলায় বারি-৯৮, বারি-৭৫, খাটোবাবু, রডমিনিসহ অনেক উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের আবাদ রয়েছে। উপজেলায় এবার মোট ৭ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারনে ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তবে ধানের বাজারমূল্য কিছুটা কম হয়েছে। তবে কিছুদিন রেখে বিক্রি করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যেতে পারে।





