পূর্বাচলকে ঢাকার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অনুমোদন

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:০৯ অপরাহ্ন, ০১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৪:৪৪ অপরাহ্ন, ০১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের পুরো এলাকা ঢাকা জেলার প্রশাসনিক আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তিনটি নতুন উপজেলা এবং একটি নতুন থানা গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের একটি বড় অংশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় এবং অপর অংশ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। প্রকল্পটি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর—এই তিন জেলার প্রশাসনিক সীমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা প্রদানে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল।

আরও পড়ুন: আগামীকাল এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা, সিসিটিভিতে নজরদারি হবে সব কেন্দ্র

এ পরিস্থিতিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পুরো পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে ঢাকা জেলার প্রশাসনিক আওতায় আনার প্রস্তাব দেয়। নিকার সভায় সেই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রকল্পের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকর হবে।

সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৩৬ দিনের আন্দোলনে স্বৈরাচারের পলায়ন

এ ছাড়া কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘বাঙ্গরা’ নামে এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ নামে আরও দুটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

শুধু উপজেলা নয়, আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবার কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ নামে একটি নতুন থানা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও নিকার সভায় অনুমোদন পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিকারের অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এসব সিদ্ধান্ত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বাস্তবায়ন শেষে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনিক সেবা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।