রক্তমাখা জাতীয় পতাকা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিলেন জুলাই আন্দোলনে আহত শেখ আজিজুর
জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত শেখ আজিজুর রহমান রক্তমাখা জাতীয় পতাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মাথার রক্তক্ষরণ ঠেকাতে যে পতাকাটি মাথায় বেঁধেছিলেন, সেটিই তিনি স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শেখ আজিজুর রহমানকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে শেখ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
আরও পড়ুন: ভোল পাল্টে এখন সবাই জুলাইযোদ্ধা: মির্জা ফখরুলের
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ আজিজুর রহমানের আহত হওয়ার ঘটনা, চিকিৎসা, লেখাপড়া, বর্তমান জীবনযাপন এবং সিএনজি চালিয়ে শিক্ষাজীবনের ব্যয় নির্বাহের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। তার জীবনসংগ্রামের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন বলেও জানানো হয়।
সাক্ষাৎ শেষে শেখ আজিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পেরে তিনি আবেগাপ্লুত। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে রক্তমাখা জাতীয় পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ায় এটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন: আগস্টের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
শেখ আজিজুর রহমান বলেন, "এই পতাকাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।"
শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে মিরপুর-১০ ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা বহন করার সময় পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির আঘাত পান। আহত অবস্থায় মাথার ক্ষতস্থানে জাতীয় পতাকা বেঁধে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। পরে ১৯ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই মুক্তি পান।
শেখ আজিজুর রহমান দাবি করেন, আন্দোলনে আহত হলেও এখনো তিনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ সময়ে জীবিকা ও পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে তাকে সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়েছে।





