বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, ২৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১১:২২ পূর্বাহ্ন, ২৪ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে এ শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: টানা ১৩তম রাতে ইরানে মার্কিন হামলা, কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ৩০১ ধারার আওতায় নেওয়া এ পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি আগের শুল্কব্যবস্থার তুলনায় আরও শক্তিশালী। অতীতেও এ ধারা আদালতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বহাল ছিল।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করেছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে (ইডিটি) শেষ হবে। একই সময় থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। তবে ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট (ইডিটি) পর্যন্ত পরিবহনাধীন পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে না।

আরও পড়ুন: মোদির আশ্বাসের পর অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। এখন বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোকেও একই ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করা উচিত। তার মতে, এ উদ্যোগ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা মোকাবিলার পাশাপাশি শ্রমিকদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও জানান, যেসব দেশ ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ শুল্কহার নির্ধারণ করেছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক সেই সীমা অতিক্রম করবে না। কারণ এসব চুক্তিতে জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়াসহ ১৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট শুল্কহার হবে ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। আর চীনসহ বাকি ৩৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের আইন প্রতিষ্ঠান ওয়াইলি রেইনের বাণিজ্য আইনজীবী টিম ব্রাইটবিল বলেন, নতুন শুল্ক বর্তমান বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি মেয়াদ শেষ হওয়া ১০ শতাংশ শুল্কের বিকল্প হিসেবে কার্যকর হবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এটি শুধু আগের শুল্কের পরিবর্তে নয়; বরং জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি বাস্তবায়নের অংশ। তার দাবি, অন্য দেশগুলো এ বিষয়ে তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে থাকায় তারা অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলই দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে জোরপূর্বক শ্রম নির্মূলের আহ্বান জানিয়ে আসছে। প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেরই অংশ।

নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য এবং গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো যেসব পণ্যের ওপর আগে থেকেই ২৩২ ধারার আওতায় জাতীয় নিরাপত্তাজনিত শুল্ক কার্যকর রয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা (ইউএসএমসিএ) বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণকারী পণ্যও নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।

৩০১ ধারার আওতায় চূড়ান্ত এই শুল্ক কাঠামো মূলত ১ জুন প্রস্তাবিত জোরপূর্বক শ্রমবিষয়ক শুল্কনীতির অনুসরণে তৈরি হয়েছে। যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী আইন ও তার প্রয়োগ যথেষ্ট রয়েছে, তাদের জন্য ১০ শতাংশ এবং যেসব দেশে এ ধরনের আইন বা প্রয়োগ দুর্বল, তাদের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতসহ কয়েকটি দেশ শ্রমসংক্রান্ত আইন সংস্কার ও নতুন পদক্ষেপ নেওয়ায় তারা ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় এসেছে।

এদিকে গণশুনানির পর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর পিগ আয়রন, নির্দিষ্ট চিনিজাত পণ্য, পশু ও বীজজাত পণ্য এবং কিছু রাসায়নিক পদার্থকেও নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতির তালিকায় যুক্ত করেছে।


সূত্র: রয়টার্স