মক্কার কাছে হুথিদের ড্রোন হামলা, ভূপাতিত করল সৌদি
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার কাছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের উৎক্ষেপণ করা একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি বলেছেন, ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে দুই পবিত্র মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটি বাধা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ মক্কার দক্ষিণে গিয়ে পড়ে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: লস অ্যাঞ্জেলেসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৩
জোটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী হুথিদের উৎক্ষেপণ করা একটি ‘শত্রু ড্রোন’ পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করেছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের এই দাবির বিষয়ে হুথিরা বলেছে, মক্কার দিকে তারা কোনো ড্রোন পাঠায়নি।
মক্কাকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় চেষ্টা, দাবি সৌদির
আরও পড়ুন: প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে বিপুল স্বর্ণ-রুপার সন্ধান
আল-মালিকি দাবি করেছেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুথিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি করে সৌদি জোট।
তিনি বলেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তবে হুথিদের একজন কর্মকর্তা সৌদি জোটের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, মক্কাকে লক্ষ্য করে কোনো ড্রোন হামলা চালানো হয়নি।
তিন সৌদি শহরে হামলায় ১৩ জন আহত
মক্কার কাছে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন এর আগের দিন সৌদি জোট জানিয়েছিল, হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দেশটির খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ শহরে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
জোটের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের মধ্যে আঘাতের মাত্রা ছিল সামান্য থেকে মাঝারি।
এর পর সৌদি আরব হুথিদের হামলার জবাব ‘দৃঢ়ভাবে’ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। জোটের মুখপাত্র বলেছেন, সৌদি সার্বভৌমত্ব, বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইয়েমেনে আবারও সংঘাত বাড়ছে
ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে সংঘাত বেড়েছে। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও দেশটির কয়েকটি এলাকা দখলে নেওয়ার পর ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে।
পরবর্তী সময়ে সংঘাতের তীব্রতা কমলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
লোহিত সাগরে নৌ অবরোধের ঘোষণা
সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা এবং লোহিত সাগরে দেশটির জাহাজগুলোতে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অংশ এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে হুথিদের অগ্রগতি নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে খবর এসেছে।
এই প্রণালিটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। ফলে ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের প্রভাব শুধু দেশটির অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; লোহিত সাগর ও আশপাশের সামুদ্রিক যোগাযোগ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড





