খালেদা জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী ও বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউপি ভোট, তারিখ বদলের ভাবনা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১১:০৩ অপরাহ্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৩ অপরাহ্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচিতে দুটি তারিখ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ভোটের তারিখে পরিবর্তনের কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্ভাব্য দ্বিতীয় ধাপের ভোটের দিন ১৩ ডিসেম্বর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার গণিত পরীক্ষা এবং তৃতীয় ধাপের ভোটের সম্ভাব্য দিন ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পড়েছে। বিষয়টি কমিশনের নজরে আসার পর নতুন করে সময়সূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, ভোটের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য তারিখগুলোতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। তবে এখনো কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

আরও পড়ুন: ইউপি ভোটের ৭ ধাপের সময়সূচি নিয়ে ধোঁয়াশা

ইসির ঘোষিত সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

এর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের সম্ভাব্য ভোটের দিন ১৩ ডিসেম্বর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার গণিত পরীক্ষা রয়েছে। জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ৮, ১০, ১৩ ও ১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন: ১২ নভেম্বর থেকে শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি

ইসি ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইউপি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পরীক্ষা চলাকালে একই সময়ে ইউপি নির্বাচন আয়োজন নিয়ে বাস্তবিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, তৃতীয় ধাপের সম্ভাব্য ভোটের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সম্ভাবনা থাকায় ওই তারিখ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ইসি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার মতামত নেওয়া হবে। এরপর কমিশন সভায় সম্ভাব্য সময়সূচি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় যে আলোচনা ও পরামর্শ উঠে আসবে, তা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীতে ইউপি ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ও ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার ইসিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, বর্তমানে প্রকাশিত ইউপি নির্বাচনের তারিখগুলো সম্ভাব্য সময়সূচি; আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ও সংশ্লিষ্টদের মতামত পর্যালোচনার পরই চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।