আমন ঘিরে কৃষকের স্বপ্ন, বাড়তি খরচে শঙ্কা!
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় আমন ধানকে ঘিরে মাঠজুড়ে এখন কৃষকের ব্যস্ততা। কোথাও জমি প্রস্তুত, কোথাও চলছে চারা রোপণ, আবার কোথাও পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক-শ্রমিক। বর্ষার পানি ও অনুকূল আবহাওয়ায় আমনের জমিগুলোতে তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকরা। তবে একই সঙ্গে বেড়ে যাওয়া বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কৃষকদের আশঙ্কা—ফলন ভালো হলেও ধানের বাজারদর কমে গেলে শেষ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখা কঠিন হতে পারে। ফলে এবার আমনের মাঠে একদিকে যেমন সবুজ সম্ভাবনা, অন্যদিকে তেমনি উৎপাদন খরচ ও ন্যায্যমূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা।
আরও পড়ুন: কিস্তির টাকা উত্তোলনে অসম্মতি, স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিতে ইতোমধ্যে আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে। অনেক জমিতে চলছে হালচাষ ও জমি সমান করার কাজ। আবার কোথাও বীজতলা থেকে চারা তুলে সারিবদ্ধভাবে জমিতে রোপণ করছেন কৃষকরা। পাশাপাশি সেচ ও আগাছা পরিষ্কারের কাজও চলছে।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কৃষক ও শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমি এখন মুখর। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে আমনের ফলন ভালো হবে বলে প্রত্যাশা কৃষকদের।
আরও পড়ুন: বিআরটিএতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২ দালালের কারাদণ্ড
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন চাষে এবার উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে শ্রমিকের মজুরি।
কৃষকদের হিসাবে, একজন শ্রমিককে বর্তমানে দৈনিক ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। প্রতি কানি—অর্থাৎ ৬০ শতক—জমির আমনের চারা কিনতেই খরচ হচ্ছে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে সার, কীটনাশক, সেচ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের ব্যয়।
ধানের ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে কৃষক লাভবান হবেন বলে মনে করছেন তারা। কিন্তু ধান কাটার মৌসুমে বাজারদর কমে গেলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হবে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
ধান্যদৌল গ্রামের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, “এবার জমিতে ধানের চারা ভালো হয়েছে। আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে। এভাবে আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে আমাদের লাভ থাকবে না।”
চান্দলা ইউনিয়নের বড়ধুশিয়া গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন বলেন, কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার আমন চাষে খরচ বেশি হচ্ছে। ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরি নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে। সরকারিভাবে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হলে কৃষকরা আরও উৎসাহিত হবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল মতিন বলেন, চলতি বছর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বেশ ভালো। কৃষকেরা এখনো বিভিন্ন এলাকায় চারা রোপণ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আমন আবাদ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষকের দাবি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত • সার-কীটনাশকের সহজলভ্যতা • শ্রমিক সংকট নিরসন
কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সার ও কীটনাশকের সহজলভ্যতা এবং ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।





