গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে হাড়ি-পাতিল ও চুলা নিয়ে নারীদের অবস্থান কর্মসূচি

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৯ অপরাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২:০৯ অপরাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের কথিত ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় জোট। কর্মসূচিতে হাড়ি-পাতিল ও গ্যাসের চুলা নিয়ে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারীরা।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় রাজধানীর পল্টনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পল্টন জিরো পয়েন্ট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: সচিবালয় ঘেরাওয়ে পুলিশের বাধা, মুখোমুখি ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আছিয়া খাতুন বলেন, গ্যাসের অভাবে নিয়মিত রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানান।

কর্মসূচি থেকে ১১ দলীয় জোট বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে ১০ দফা দাবি তুলে ধরে। দাবির মধ্যে রয়েছে, গত তিন মাসে আদায় করা কথিত ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে গণশুনানি আয়োজন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন: সব নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

এ ছাড়া প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারের ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য অযৌক্তিক চার্জ বাতিল, অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ গ্রাহকদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

জোটের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, কূপ খনন এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব প্রকাশ এবং পুনরায় চালুর সময়সূচি ঘোষণার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নেরও আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় রোধে কঠোর ব্যবস্থা, স্মার্ট মিটারিং চালু, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, পুরোনো পাইপলাইন সংস্কার এবং শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানায় ১১ দলীয় জোট। একই সঙ্গে এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত এবং জ্বালানি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হয়।