ছুটির দিনেও বৈঠক, এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিল সরকার
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারি ছুটির দিনেও সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সরকার নতুন করে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।
সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এই এলএনজি কেনা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ দশমিক ৫৫ মার্কিন ডলার। একটি কার্গোর মোট মূল্য প্রায় ৭ কোটি ২৪ লাখ ৮ হাজার মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭২ দশমিক ৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের প্রাণঘাতী হামলায় তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ
শুক্রবার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অষ্টম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরকারি ছুটির দিনেও এ বৈঠক আয়োজনকে জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারের তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সৌদিগামী ২ ফ্লাইট স্থগিত, যাত্রীদের বিমানবন্দরে যেতে নিষেধাজ্ঞা
সভা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের ১১ ও ১২ আগস্ট ডেলিভারির জন্য জিটুজি কাঠামোর আওতায় আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে। একটি কার্গোতে প্রায় ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকে। নির্ধারিত দামে এ কার্গোর জন্য মোট ব্যয় হবে প্রায় ৭২ দশমিক ৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং সার কারখানায় গ্যাসের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। অন্যদিকে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার স্পট মার্কেট এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি—উভয় উৎস থেকেই নিয়মিত এলএনজি সংগ্রহ করছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম এখনও অস্থির রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক চাহিদা এবং মৌসুমি প্রভাবের কারণে দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো এলএনজি কার্গো সংগ্রহে সরকারি ক্রয় কমিটির দ্রুত সিদ্ধান্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।





