সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর চাঁদাবাজির কারণে নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:২৮ অপরাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগকে ‘ঢালাও’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর দাবি, ঘটনাটি চাঁদাবাজির কারণে নয়; রাজধানীর মানিকদী নামাপাড়া এলাকায় প্রায় ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ও দখল-বেদখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি ‘ভিকটিমাইজড’ হয়েছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত হয়েছে। তবে ঘটনার পুরো চিত্র জানতে আরও বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তখনও মামলা হয়নি।

আরও পড়ুন: আইডিয়াল ও ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সালমান মুক্তাদির ফেসবুক লাইভে এসে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল এবং সেই চাঁদা না দেওয়ার কারণে স্টুডিওতে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। তবে তিনি এ ঘটনায় কোনো মামলা করেননি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তাঁর ভাষ্য, সালমান একপর্যায়ে বলেছেন, তাঁর কাছে কেউ চাঁদা চাননি; চাইলে তিনি চাঁদা দিতেন। এরপর বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এ ধরনের বক্তব্য সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পর্যায়ে পড়ে না।

আরও পড়ুন: ধানমন্ডিতে এরিস্টো আই হসপিটালের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ঘটনার পেছনে জমি নিয়ে বিরোধের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মানিকদী নামাপাড়া এলাকার বিরোধপূর্ণ জমিটি ক্যান্টনমেন্ট থানার আওতাধীন। প্রাথমিক তদন্তের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ওই জমি নিয়ে ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ’ নামে একটি বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠান এবং এক অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তথ্য অনুসারে অবসরপ্রাপ্ত ওই সামরিক কর্মকর্তার পক্ষে কিছু লোক রাতে জমিটি দখলের চেষ্টা করতে যায়। সেখানে গিয়ে তারা স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। ওই স্থাপনার একটি অংশে সালমান মুক্তাদিরের টিনশেড স্টুডিও ছিল, যেখানে তিনি কনটেন্ট তৈরি করতেন। সেটিতেও ভাঙচুর করা হয় বলে জানান তিনি।

জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও দখল-বেদখলের ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা এবং কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। মামলা হলে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী অগ্রগতি জানানো যাবে।