সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত, সৌন্দর্যবর্ধনে ১০ গুণীর গ্রাফিতি

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ন, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৫ অপরাহ্ন, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দখলমুক্ত করা ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্কারের পাশাপাশি ফুটপাতটিতে নতুন ডাস্টবিন, বসার বেঞ্চ এবং সীমানা প্রাচীর সংস্কার করা হয়েছে।

সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ফুটপাতের বিভিন্ন স্থানে দেশের শিল্প ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন: বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

সোমবার (৫ অক্টোবর) সেগুনবাগিচায় সংস্কার করা ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে কোনো হকারকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। হকারদের জন্য বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তাদের সেখানেই ব্যবসা করতে হবে। উচ্ছেদের পর কেউ আবার নিষিদ্ধ এলাকায় বসলে মালামাল জব্দসহ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্র সুসংহত করতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে: সিইসি

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, হকারদের উচ্ছেদ করাই তাদের উদ্দেশ্য নয়। দরিদ্র হকারদের ব্যবসার পুঁজি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এজন্য বিকল্প ব্যবসার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, পীর ইয়ামেনী মাজার এলাকায় শুক্র ও শনিবার ‘হলিডে মার্কেট’ চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য দিনগুলোতে আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশের সড়কের ফুটপাতে হকারদের বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। হকার সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে একাধিক আলোচনার পর এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মূল সড়ক বন্ধ করে কিংবা অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো ফুটপাত দখল করে হকার বসতে পারবেন না। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কেউ ব্যবসা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যে জায়গা দিয়ে আগে পথচারীদের স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন ছিল, তা এখন দখলমুক্ত করা হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমির পাশের এই এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে গড়ে তুলতে চায় ডিএসসিসি।

এলাকাটি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করবেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে সৌন্দর্য ও পরিবেশ ধরে রাখতে শিল্পকলা একাডেমি এবং সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও সবুজ রাখতে সাংবাদিক, হকারসহ নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে মো. আবদুস সালাম বলেন, ঢাকাকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ রাখা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি সব ঢাকাবাসীর নাগরিক দায়িত্ব।