শিক্ষায় প্রযুক্তির ছোঁয়া, ৭ লাখ শিক্ষককে ট্যাব দেবে সরকার

Sanchoy Biswas
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৪৬ অপরাহ্ন, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৬ অপরাহ্ন, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ১৭ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় দেশের ৭ লাখের বেশি শিক্ষককে একটি করে ট্যাবলেট কম্পিউটার (ট্যাব) দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০টি করে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি করা হবে। আর ৩২ জেলায় করা হবে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। সেখানে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। গতকাল বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রস্তাবিত এ উদ্যোগের আওতায় মাউশির অধীন সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ডিভাইস বিতরণের তালিকা তৈরির সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসংখ্যা, এমপিওভুক্তি ও অন্যান্য প্রশাসনিক তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। প্রকল্প চূড়ান্ত হওয়ার পর তালিকা ও নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করবে। প্রকল্পটির আওতায় শুধু শিক্ষককে ডিভাইস দেওয়াই নয়, শ্রেণিকক্ষকেও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ১০টি করে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে থাকবে একটি করে ইন্টারেকটিভ এডুকেশন প্যানেল। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা হবে একক ‘এডু আইডি’।

আরও পড়ুন: ক্রীড়া ও স্বাস্থ্যখাতে ঢাকা-বেইজিং সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ

মাউশির পরিকল্পনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, এসব সুবিধার মাধ্যমে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনার সুযোগ বাড়বে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর শেখার ক্ষেত্রও বিস্তৃত হবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অবকাঠামো শক্তিশালী করতেও আলাদা উদ্যোগ রয়েছে। দেশের ৩২টি বৃহৎ জেলায় ‘হায়ার সেকেন্ডারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ (এইচএসটিটিআই) স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আঞ্চলিক পর্যায়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। এছাড়া প্রস্তাবিত ‘হায়ার সেকেন্ডারি টিচার্স প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের’ (এইচএসটিপিডিপি) আওতায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের ৩৫ দিনব্যাপী মিশ্র পদ্ধতির (ইএলপি) বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১০ হাজার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে ২৩ দিনব্যাপী নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ৪ হাজার গভর্নিং বডি সদস্যের জন্য থাকবে সমন্বিত ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি। শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে চলমান রয়েছে আরও বড় কর্মসূচি। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (লেইস) প্রকল্পে তিন লাখ ৬০ হাজার ৫৬৬ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ হাজার ৮৮০ জন নতুন শিক্ষককে ৫৬ দিনব্যাপী আবাসিক বেসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আরও ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষক পাচ্ছেন ৪২ দিনব্যাপী আবাসিক পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ। লেইস প্রকল্পে বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণও রাখা হয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার ২৪ হাজার ৪০০ জন প্রধান শিক্ষককে ২১ দিনব্যাপী নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে অন্য শিক্ষকদের আইসিটি বিষয়ে অভ্যন্তরীণভাবে প্রশিক্ষণ দেবেন। এছাড়া ১১ হাজার শিক্ষককে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, কাউন্সেলিং ও বুলিং প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ পাবেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষক। আইসিটি বিষয়েও ২৯ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, শিক্ষকতা পেশায় মেধাবীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। প্রকৃত মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আনতে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের স্মার্ট দক্ষতায় রূপান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার কাজ করছে।