অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: মির্জা ফখরুল

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ন, ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

 বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের জন্য এই সরকারই দায়ী। নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই এবং নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবিও বাস্তবসম্মত নয়—নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে, দুটি ব্যালটে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: পিছনের দরজা দিয়ে গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্র এখনো চলছে: ডা. রফিক

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ঐকমত্যের নথিতে স্বাক্ষর করেছিলাম, কিন্তু পরে দেখা গেল সেখানে আমাদের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উল্লেখ করা হয়নি। এটা স্পষ্টতই আস্থাভঙ্গ—‘ইটস অ্যা ব্রিচ অব ট্রাস্ট’। অন্তর্বর্তী সরকার সেই আস্থার সেতু ভেঙে দিয়েছে, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশন প্রায় এক বছর সংস্কার ও নীতিগত বিষয়ে আলোচনা করেছে। অনেক বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, কিছু বিষয়ে মতভেদ ছিল। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, আমরা পার্লামেন্টে সংস্কারগুলো পাস করবো—এটাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।

আরও পড়ুন: দেশপ্রেমিক শক্তির বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে: মির্জা আব্বাস

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা বলে বিএনপি সংস্কার চায় না, তারা মিথ্যা বলছে। আমরা ১০ দফা, ২৭ দফা, ৩১ দফা দিয়েছি—সবই সংস্কারের লক্ষ্যেই। বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে ঐকমত্য কমিশনের অভ্যন্তর থেকেই।”

নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন করতে চাই এবং করবও। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার সঙ্গে আমরা একমত। এখন যারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়, তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ নেই—নির্বাচনের দিনই গণভোট হবে, দুটি ব্যালটে।

তিনি আরও বলেন, যারা জনগণকে ভুল পথে নিতে চাইছে, তারা এক সময় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, এখন গণতন্ত্রের বিরোধিতা করছে। জনগণ আর কাউকে প্রতারণা করতে দেবে না।

শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আমাদের রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই। সবাই মিলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।