বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০৩ অপরাহ্ন, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:০৩ অপরাহ্ন, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দলটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদ শূন্য হয়ে পড়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে কবে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হবে—সে বিষয়ে এখনো দলীয় সিদ্ধান্ত হয়নি।

সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট থাকায় এই বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা জরুরি হয়ে পড়েছে বিএনপির জন্য। এরই মধ্যে দলটির সামনে বড় বাস্তব প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—নির্বাচনী প্রচারে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, লিফলেট ও ডিজিটাল পোস্টারে কার ছবি ব্যবহার করা হবে।

আরও পড়ুন: দুস্কৃতিকারীদের কঠোর হস্তে দমনের দাবি মির্জা ফখরুলের

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ ইতোমধ্যে অনেক প্রার্থী ব্যানার ও পোস্টার ছাপিয়েছেন, যেখানে রয়েছে প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি। তার মৃত্যুর পর সেই বাস্তবতা বদলে গেছে।

দীর্ঘদিন নানা জটিল রোগে ভুগে গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল ছয়টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুর ফলে বিএনপির ‘চেয়ারপারসন’ পদ শূন্য হয়। এমন এক সময়ে এই শূন্যতা তৈরি হলো, যখন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে।

আরও পড়ুন: স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মুছাব্বির হত্যার প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, শনিবার বিক্ষোভ ঘোষণা

সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা–২০২৫-এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী, দলীয় মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নিলে ব্যানার, লিফলেট বা ফেস্টুনে কেবল বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করা যাবে। ছবিটি হতে হবে পোর্ট্রেট আকারে এবং তা নেতৃত্বদান বা বিশেষ ভঙ্গিমায় ব্যবহার করা যাবে না। এই বিধির আলোকে বিএনপির প্রার্থীরা এখন দ্বিধায়—দলীয় প্রধান হিসেবে কার ছবি ব্যবহার করা বৈধ হবে।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে দলের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়নি। বাস্তবে এই পদবিও এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে নির্বাচনী প্রচারে কার ছবি যাবে, সে বিষয়ে দলীয়ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও কৌশলগত কারণে বিষয়টি আপাতত সামনে আনা হচ্ছে না। তবে বাস্তবে দলের সব সিদ্ধান্ত, দিকনির্দেশনা ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারিত হচ্ছে তারেক রহমানকে কেন্দ্র করেই। সময় উপযোগী হলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও আসবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনী পোস্টারে দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানতে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। সে জন্য শিগগিরই কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় তিন দিনের শোক শেষে বর্তমানে বিএনপির সাত দিনের শোক কর্মসূচি চলছে, যা শেষ হবে ৫ জানুয়ারি। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হচ্ছে। এই শোকের আবহেই নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে হচ্ছে দলকে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা এখনো গভীর শোকের মধ্যে আছি। নির্বাচনী কাজে মন থেকে উৎসাহ পাওয়া কঠিন। তবু যতটুকু করা সম্ভব, করতে হচ্ছে।’

দলীয় সূত্র জানায়, শোক কর্মসূচি শেষ হলে বিএনপি পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবে। অনেক নেতা-কর্মীর মতে, শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও খালেদা জিয়াই এবারের নির্বাচনী প্রচারের আবেগী কেন্দ্র হয়ে থাকবেন। তার জানাজা ও অন্তিম বিদায়ে মানুষের বিপুল উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক মহলের শ্রদ্ধাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার কৌশলেই এগোতে চায় দল।

ইতোমধ্যে নির্বাচন পরিচালনা ও কৌশল বাস্তবায়নের জন্য ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রার্থী ব্যবস্থাপনা, বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ, সাংগঠনিক সমন্বয় ও প্রচারের দিকনির্দেশনা দেবে।

তবে নির্বাচনের পথে বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শতাধিক আসনে একাধিক নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরই মধ্যে রুমিন ফারহানা, সাইফুল আলম (নীরব), হাসান মামুনসহ নয়জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, আরও অনেককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দলের শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য, খালেদা জিয়াকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা এখন বিএনপির ওপর আরও বেড়েছে। সে কারণে প্রতিটি ধাপে সতর্কভাবে এগোচ্ছে দল, যাতে ভোটারদের কাছে কোনো বিভ্রান্তিকর বার্তা না যায়।