তফসিলের আগে ত্যাগ মার্কিন নাগরিকত্ব ছাড়লেন শামা ওবায়েদ

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গত ২০ নভেম্বর তিনি সেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। নির্বাচন কমিশনে ২৮ ডিসেম্বর দাখিল করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

হলফনামায় শামা ওবায়েদ নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (আইজিসিএফ) জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জ-২ আসনে একই পরিবারের তিন প্রার্থী, ভিন্ন দল—রাজনীতিতে ত্রিমুখী সমীকরণ

শামা ওবায়েদের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে মোট ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। এর মধ্যে—

 অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে আয়: ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে মুনাফা: ৪৬ হাজার ৪০৪ টাকা, চাকরি থেকে আয়: ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা,  সম্মানী ভাতা: ৯৬ হাজার টাকা

আরও পড়ুন: দুস্কৃতিকারীদের কঠোর হস্তে দমনের দাবি মির্জা ফখরুলের

হলফনামা অনুযায়ী, তার অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে—নগদ অর্থ: ২ কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা: ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা, শেয়ার, বন্ড ও ঋণপত্রে বিনিয়োগ: ৫০ লাখ টাকা, একটি জিপ গাড়ি: ৩০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া অস্থাবর সম্পত্তির তালিকায় ৫০ তোলা স্বর্ণের কথা উল্লেখ করা হলেও এর কোনো আর্থিক মূল্য দেখানো হয়নি।

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে শামা ওবায়েদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে—ঢাকার বনানীতে ৩ হাজার ২৪৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট (মূল্য ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা), উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমি (মূল্য উল্লেখ নেই)।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮ সালের তুলনায় শামা ওবায়েদের আয় কমেছে। ২০১৮ সালে তার মোট আয় ছিল ৩০ লাখ ৬ হাজার ৮২৫ টাকা, যা সর্বশেষ হলফনামায় কমে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকায়। অর্থাৎ সাত বছরে আয় কমেছে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ টাকা।

অন্যদিকে অস্থাবর সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৫৩ লাখ ৮২ হাজার ২৮৭ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকায়। অর্থাৎ সাত বছরে এই খাতে সম্পদ বেড়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৩ হাজার ৫১৯ টাকা।

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ২০১৮ সালে তিনি স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছিলেন ৭ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, বর্তমানে তা কমে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। সে সময় উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১ দশমিক ৫ একর কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছিলেন, যার মূল্য তার জানা ছিল না। সর্বশেষ হলফনামায় কোনো কৃষিজমি দেখানো হয়নি, তবে এবার যুক্ত হয়েছে ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমি।

ঋণের হিসাবেও পরিবর্তন এসেছে। ২০১৮ সালে অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে তার নামে ৩ কোটি ৫ লাখ টাকার ঋণ ছিল। সর্বশেষ হলফনামায় তিনি নিজের নামে কোনো ঋণের তথ্য দেননি।

স্বর্ণের ক্ষেত্রেও পার্থক্য দেখা গেছে। ২০১৮ সালে তিনি বিয়ের উপহার হিসেবে পাওয়া ৬০ তোলা স্বর্ণের কথা উল্লেখ করেছিলেন। বর্তমানে তা কমে ৫০ তোলা দেখানো হয়েছে।