নির্বাচন পরিচালনায় বর্তমান ইসি যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে: মির্জা ফখরুল

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ন, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:৪৯ অপরাহ্ন, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় বর্তমান নির্বাচন কমিশন(ইসি) যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে বলে মন্তব্য  মির্জা ফখরুল ইসলাম। সোমবার সকালে শেরে বাংলা নগরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অপর্ণের পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন,  নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যখন বাছাই হয় তখন কিছু সমস্যা থাকে এটা নতুন কোনো ব্যাপার না।  আমরা এখন পরযন্ত নির্বাচন কমিশনকে দেখেছি যে, মোটামোটিভাবে তারা যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে। আমাদের যে সমস্যাগুলো দুই-একটা আমরা মনে করেছি সেটা আমরা গতকাল তার(প্রধান নির্বাচন কমিশনার) সামনে তুলে  ধরেছি। আমরা বিশ্বাস করি যে এই নির্বাচন কমিশন যোগ্যতার সঙ্গে এই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন: গণমানুষের স্বাস্থ্যসেবায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. রফিকুল ইসলাম

ভোটে সমান সুযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের নেই।

জিয়াউর রহমানের ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সকাল ১১টায় বিএনপি মহাসচিব দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, সালাহ উদ্দিন আহমদকে নিয়ে শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করেন এবং পরে  জিয়াউর রহমান এবং পাশে শায়িত দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বি্শেষ মোনাজাতে অংশ নেন তারা।

আরও পড়ুন: ধর্মের অপব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেস্টা আইনত অপরাধন: মাহ্দী আমিন

এই সময়ে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, রফিকুল ইসলাম, মীর নেওয়াজ আলী, হেলেন জেরিন খান, শাহ নেছারুল হক,  এসএম জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

পরে বিএনপি মহানগর, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, ছাত্র দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা জিয়ার কবরে পুস্পমাল্য অর্পন করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘ বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের ৯০তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ আমরা কবর জিয়ারত করতে এসেছি, শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। একই সঙ্গে আমরা বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতার মাজারে শ্রদ্ধা জানিয়েছি।”

‘‘ তার পাশেই শুয়ে আছেন আরেকজন ক্ষনজন্মা অপরাজেয় মহীয়সী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি তার সারাটা জীবন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য লড়াই করে তার জীবন উৎসর্গ করেছেন।”

তিনি বলেন, ‘‘ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অমর নাম।  যে নাম প্রতি মুহুর্তে স্মরণ করতে হয়। যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন এবং পরবর্তিকালে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুণঃপ্রবর্তন করেছিলেন সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করেছিলেন।”

‘‘ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটা বোটম লেস বাস্কেট থেকে সমৃদ্ধির অর্থনীতিতে পরিণত করেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কে আমরা বাংলাদেশের মানুষ প্রতি বছর স্মরণ করি, তার অনুসৃত যে পথ  সেই পথে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যায় এবং উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবার লক্ষ্যে আমরা আরও দৃঢ়ভাবে শপথ গ্রহন করি।”

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ আজকে যখন ফেব্রয়ারি মাসের ১২ তারিখে নির্বাচন ঘোষিত হয়েছে, একটি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে তখন আবার নতুন করে একটা ধবংসপ্রাপ্ত অর্থনীতির বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়ার জন্য আমরা আজকে এখানে শপথ নিয়েছি।”

‘‘‘ এই শপথের মধ্য দিয়ে বিএনপি এবং এর সমস্ত অঙ্গসংগঠনের শহীদ জিয়ার আদর্শ সেই আদর্শকে বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করব এই শপথ আমরা এখানে নিয়েছি।”