গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ৬

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজার রাজধানী গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ হামলা চালানো হয় বলে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গাজা সিটির বন্দর এলাকায় একটি জনাকীর্ণ ক্যাফেতে হামলাটি চালানো হয়। ওই এলাকা বর্তমানে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়শিবির হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হামলার পর আল-শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কয়েকজনের মরদেহ পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: ফের আমিরাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

হামলার সময় ক্যাফেটিতে অনেক মানুষ অবস্থান করছিলেন। আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রক্তাক্ত অবস্থায় কয়েকজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হামাসের কয়েকজন কমান্ডারের একটি বৈঠক। তাদের অভিযোগ, ওই কমান্ডাররা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি ইসরায়েলি বাহিনী।

আরও পড়ুন: ইবোলা সংক্রমণ ৫ হাজার ছাড়িয়েছে, ‘বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা’: ডব্লিউএইচও

হামাস হামলার নিন্দা করে এটিকে যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতাকারী ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সব আহ্বানের প্রতি ‘স্পষ্ট অবজ্ঞা’ বলে অভিহিত করেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সিটির বন্দর এলাকায় প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ তাঁবু থেকে বের হয়ে ক্যাফেতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এর মধ্যেই হামলাটি চালানো হয়।

গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ জানান, হামলার আগে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, গাজায় মানুষ রাস্তায় হাঁটা কিংবা ক্যাফেতে বসার সময়ও কখন হামলার শিকার হবেন, তা অনুমান করতে পারছেন না।

এদিকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চললেও তা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ওই পরিকল্পনা নিয়ে এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না। অন্যদিকে হামাসের দাবি, ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করলেই তারা অস্ত্র ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা করবে। বর্তমানে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এর একদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত জ্যারেড কুশনার গাজা যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে মধ্যপ্রাচ্যে সফর করেন। তবে সফরটি কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। কুশনারের সঙ্গে বৈঠকের পরও হামাস ও নেতানিয়াহু নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধ বন্ধের মার্কিন পরিকল্পনা মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। জনমত জরিপে তার নেতৃত্বাধীন জোট পিছিয়ে থাকায় রাজনৈতিক স্বার্থেও তিনি নির্বাচনের আগে বড় ধরনের ছাড় দিতে চাইবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা