ইবোলা সংক্রমণ ৫ হাজার ছাড়িয়েছে, ‘বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা’: ডব্লিউএইচও

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এখনো বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাণ গেছে ২ হাজার ৩২০ জনের বেশি মানুষের।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জরুরি বৈঠকের পর ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: ফের আমিরাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বৈঠকে টেড্রোস বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে—এমনটা বলার সুযোগ নেই। মহামারিটি অনেকটা এগিয়ে গেছে এবং এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের পিছিয়ে থেকে কাজ করতে হচ্ছে।

ডিআর কঙ্গোতে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। একই সঙ্গে এটিই দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবে ২ হাজার ২৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

আরও পড়ুন: গাজা সিটিতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ৬

এবারের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলার ‘বান্দিবুগিও’ (Bundibugyo) ধরনটির বিরুদ্ধে বর্তমানে অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই।

এ ছাড়া খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ ডিআর কঙ্গোর বিভিন্ন এলাকায় চলমান সংঘাত পরিস্থিতি মোকাবিলাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এর পাশাপাশি ভুল তথ্যের প্রচার, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক রীতিনীতিও রোগ নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করছে।

টেড্রোস সতর্ক করে বলেন, ইবোলা নজিরবিহীন দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় যেসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, সেগুলো থেকে এখনো শনাক্ত না হওয়া সংক্রমণের শৃঙ্খল থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করে তা বন্ধ না করা পর্যন্ত এই মহামারি পুরোপুরি থামবে না।

ডব্লিউএইচওর চিকিৎসক থিয়েরনো বালদে জানান, রোগী ও মৃতদেহ পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় মোটরসাইকেল চালকদের এখন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অংশ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মোটরসাইকেল চালকদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও জীবাণুনাশক সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের রোগ শনাক্তকরণ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডব্লিউএইচও জানায়, গত ১৭ মে ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হলেও নমুনার জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এর বিস্তার শুরু হয়েছিল আরও তিন মাস আগে, ফেব্রুয়ারিতে।

এদিকে এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে পরীক্ষামূলক টিকার প্রথম ডোজ গত মাসে যুক্তরাজ্যে একজন স্বেচ্ছাসেবককে দেওয়া হয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের তৈরি এই টিকার কয়েক লাখ ডোজ ইতোমধ্যে ভারতে উৎপাদন করা হয়েছে। পরীক্ষায় টিকাটি কার্যকর প্রমাণিত হলে তা দ্রুত ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা