আদি ঢাকার সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রত্যাশায় শুরু ‘ঢাকা নাট্যোৎসব’

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬:২৫ অপরাহ্ন, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪৮ অপরাহ্ন, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আদি ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রাকে উপজীব্য করে নির্মিত নাটক নিয়ে শুরু হয়েছে ‘ঢাকা নাট্যোৎসব’। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আয়োজনে ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে এ নাট্যোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর সূত্রাপুরে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

আরও পড়ুন: ইমরান হাশমির ক্যারিয়ারে নতুন রেকর্ড

নাট্যোৎসবে অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন নাট্যদলের আটটি নাটক। এর মধ্যে মতিউর রহমান রানা নির্দেশিত ও গ্রন্থিক নাট্যদলের পরিবেশনায় ‘গিরগিটি’; হামিদুর রহমান পাপ্পু নির্দেশিত ও শৌখিন নাট্যদলের পরিবেশনায় ‘অন্তরালে আয়না’; সূচনা তিসা নির্দেশিত ও মৈত্রী থিয়েটারের পরিবেশনায় ‘রঙিলা ফানুস’; এস. কে. রতন নির্দেশিত ও নবনাটের পরিবেশনায় ‘ভেলকি’; খোরশেদুল আলম নির্দেশিত ও শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্রের পরিবেশনায় ‘চম্পাবতী’; গোলাম সারোয়ার নির্দেশিত ও ঢাকা থিয়েটার মঞ্চের পরিবেশনায় ‘ঘরজামাই’; শওকত হাসান নির্দেশিত ও স্বরবিথী থিয়েটারের পরিবেশনায় ‘শাস্তি’ এবং শুভাশীষ দত্ত তন্ময় নির্দেশিত ও মেঘদূত নাট্য সম্প্রদায়ের পরিবেশনায় ‘শায়েস্তা খাঁর পরী’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, সমাজের অবক্ষয় রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। নাটক, গান, সাহিত্যচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলা সম্ভব।

আরও পড়ুন: ১১ বছর পর রোম্যান্টিক আবহে দেব-শুভশ্রী, পোস্টারে মুগ্ধ ভক্তরা

মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘একটি ফুলকে বাঁচাবো, যুদ্ধ করি’ গানের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ভালো গান কিংবা ইতিবাচক সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমেও সমাজ ও দেশকে পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, ছোটবেলায় বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত নাটকের আয়োজন হতো এবং ছিল পাঠাগার। ছেলে-মেয়েরা পাঠাগারের সদস্য হয়ে উপন্যাস, নাটক, গল্প ও কবিতার বই পড়ত। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলিও তৈরি হতো।

ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ‘এই ঢাকা আমার’—এই অনুভূতি মানুষের মধ্যে তৈরি হলে ঢাকাকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব। নিজের ঘর ও ড্রয়িংরুম পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি আশপাশের রাস্তা নোংরা করে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিজের ঘরের মতো রাস্তাকেও ভালোবাসতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান।