১৯৭১ ও মুক্তিযুদ্ধকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে: রিজভী
বর্তমানে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল ১৯৭১ সালকে ছোট করার এবং ইতিহাস থেকে মুক্তিযুদ্ধকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার কবরে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর
রিজভী বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। তাকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার যেকোনো অপচেষ্টা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। জনগণ সবকিছু দেখছে এবং কাকে খুশি করার জন্য এসব করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তরও জনগণই দেবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১, ১৯৯০-এর গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান—সবই বাংলাদেশের গৌরবের ইতিহাস। কোনো ইতিহাসকে ছোট করে অন্য ইতিহাসকে বড় করার পক্ষপাতী নয় বিএনপি।
আরও পড়ুন: ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
রিজভী বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদল, শ্রমিক দলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী আত্মত্যাগ করেছেন। প্রায় ৪৫০ জন নেতাকর্মী এ আন্দোলনে নিহত হয়েছেন। মানুষের হৃদয়ে যে ইতিহাস লেখা রয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল চাইলেই তা মুছে ফেলতে পারবে না।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানায় বিএনপি। একইভাবে জুলাইয়ের আন্দোলনে মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদ, আহনাফসহ যারা আত্মদান করেছেন, তাদের আত্মত্যাগও মহিমান্বিত।
রিজভী আরও বলেন, কাউকে ছোট করে বা কাউকে বড় করার জন্য কোনো ইতিহাসকে মুছে দিতে চায় না বিএনপি। এসব অর্জনের পেছনে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের রক্ত রয়েছে।
গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ছিল জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সেই সংগ্রামে অসংখ্য মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই অত্যাচার-নির্যাতনের পরিণতি স্মরণ করার সময় এসেছে।
আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, কোকো সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কোকোর ক্রীড়ার উন্নয়ন নিয়ে যে স্বপ্ন ছিল, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন রাষ্ট্রের।
তিনি বলেন, শুধু ক্রীড়াবিদ তৈরি করাই নয়, ক্রীড়াকে মানুষের পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ক্রীড়ার ওপর একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা যোগ্যতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হলে আরাফাত রহমান কোকোর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে।
রিজভী আরও বলেন, আরাফাত রহমান কোকো এমন একটি পরিবেশ ও পরিস্থিতির মধ্যে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, যা ছিল তৎকালীন সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসনের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে আসার সময় তার মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছিল, সেটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত করা এবং জনগণের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা মুছে দেওয়ার জন্য তৎকালীন সরকার নানা অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চালিয়েছিল। তবে এসব অপপ্রচারের সত্যতা প্রমাণ করা যায়নি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী, ক্রীড়া বোর্ড ও ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক এবং ক্রীড়া সংগঠনের নেতারা।





