র্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবে শফিকুর রহমানের সমর্থন, নতুন বাহিনী গঠনে ‘হোমওয়ার্কের’ আহ্বান
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তির প্রস্তাবকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে র্যাবের বিকল্প হিসেবে নতুন কোনো এলিট ফোর্স বা বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের আগে আরও আলোচনা, পর্যালোচনা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আবারও আলোচনায় সোহাগ ভূঁইয়া
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে র্যাব বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে র্যাব বিলুপ্তির যে প্রস্তাব আনা হয়েছে, তিনি সেটিকে সর্বান্তকরণে সমর্থন করেন। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রস্তাব আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
র্যাবের বিকল্প হিসেবে নতুন বাহিনী গঠনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এলিট ফোর্সের বিকল্প হিসেবে বা নতুন করে কোনো বাহিনী গঠনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: আমি ফিরে এসেছি মানুষের জন্য, বাংলাদেশের জন্য: সংসদে মির্জা আব্বাস
তিনি বলেন, ‘এলিট ফোর্সের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে অথবা নতুন করে যেটাই হোক, এটা গঠনের প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে। তবে, এর আগে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনা প্রয়োজন।’
সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সাইবার স্পেসে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের শিকার হচ্ছে সরকারি দল, বিরোধী দলসহ সাধারণ মানুষ। তাই সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হয়তোবা একটা সাইবার সিকিউরিটি ফোর্স আমাদের বিল্ড আপ করা লাগতে পারে। সেরকম ভালো কিছু করলে আমরা অবশ্যই সমর্থন দেব।’
তবে নতুন কোনো বাহিনী যেন দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। তার মতে, নতুন বাহিনী গঠন করা হলে সেটি যেন রিপ্রেশনের উদ্দেশ্যে না হয়ে মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যে কাজ করে।
র্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি নতুন বাহিনী গঠনের বিষয়টি নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা ও প্রস্তুতির আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘উনারাও আরেকটু চিন্তা করুন, আমরাও একটু চিন্তা করি, আর একটু হোমওয়ার্ক করি।’
নতুন কোনো বাহিনী গঠন করা হলে জনগণের মধ্যে যাতে নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয়, সেদিকেও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শুধু পদ্ধতি বা মোড়ক পরিবর্তন করে একই ধরনের প্রতিষ্ঠান আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে—জনগণের মধ্যে যেন এমন ধারণা তৈরি না হয়।
নতুন ব্যবস্থার সামগ্রিক ধারণা ও কাঠামো যে পরিবর্তিত হয়েছে, সেই নিশ্চয়তা জনগণের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমি এটার পক্ষে, কিন্তু সবাই মিলে আমরা করি, কনভিন্স হয়ে করি, আরও একটু হোমওয়ার্ক করে করি।’





