শরীয়তপুরের ডামুড্যায় তিন ফসলি জমি নষ্ট করে মাছের ঘের তৈরি

Sanchoy Biswas
মিরাজ পালোয়ান, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ন, ০২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৬:১৪ অপরাহ্ন, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় অন্তত ১০০ কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট করে মাছের ঘের করার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী একটি চক্র ইতিমধ্যে সেখানে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে জমির মাটি কেটে বাঁধ দেওয়া শুরু করেছে। জমি দখলে বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে চক্রটি। ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় ঘের বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষিজমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে এই অঞ্চলের কৃষকরা। তাদের প্রধান ফসল ধান ও মরিচ। কয়েকশ একর জমিতে অন্তত ২০০ কৃষক পরিবার মরিচ ও আউশ ধান চাষ করেন। প্রতিবছর ওই জমিতে ১০ হাজার মণ মরিচ ও পাঁচ হাজার মণ আউশ ধান উৎপাদন হয়। সম্প্রতি সেই জমিতে মাছের ঘের করার উদ্যোগ নেয় প্রভাবশালী রিপন উঝা ও লাজুক। ইতিমধ্যে তারা মাছের ঘেরের জন্য কৃষকদের ফসলি জমি দখল করে রাতের আঁধারে মাটি কাটা শুরু করেছেন। জমির মাঝখানে মাটি কেটে তৈরি করা হয়েছে বিশাল বাঁধ। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ কৃষকরা বাধা দিতে গেলে প্রতিনিয়ত মারধরের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তারা। দারুল আমান ইউনিয়নের কাইলারা গ্রামের লিটন চেয়ারম্যানের বাড়ির পেছনে এবং কনেশ্বর ইউনিয়নের ছৈয়াদ বোস্তা নান্নু ছৈয়ালের বাড়ির পাশে দিনরাত সমানতালে পাঁচটি খননযন্ত্র এক্সকাভেটর দিয়ে ইতিমধ্যেই ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করে ফেলেছে চক্রটি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্ধ করা না গেলে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। বন্ধ হয়ে যাবে সবরকম কৃষিকাজ।

আরও পড়ুন: উলিপুর ৩ আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সসম্পূর্ণ

দারুল আমান ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষক আলিম উদ্দিন বেপারী বলেন, রিপন উঝা জোর করে জমির মাটি কেটে ফেলছে। আমি জমি দেব না, তাই আমাকে হুমকি দিয়ে বলে জমি না দিলে কীভাবে নিতে হয়, নিয়ে যাবে। এই জমি নিয়ে গেলে আমি আর চাষাবাদ কিছুই করতে পারব না। আমি যাতে আমার পোলাপান নিয়ে জমিটা চাষাবাদ করে খাইতে পারি, আপনারা সেই ব্যবস্থা করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কনেশ্বরের কৃষক আমির হোসেন বলেন, আমি আমার জমিটায় মরিচ, ধান ও শাকসবজি চাষ করে সংসার চালাই। এই ২০ শতক জমি লাজুক দখল করে মাছের ঘের কাটছে। আমরা এখন কীভাবে বাঁচব। আমি আমার জমিতে মাছের ঘের করতে দেব না। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করি আমার জমি আমাকে ফিরিয়ে দেন।

আরও পড়ুন: এনসিপির মাহবুবের সম্পদ ৯৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা, বছরে আয় ১৫ লাখ

কালাম নামে আরও এক কৃষক বলেন, তারা রাতের আঁধারে জমিগুলো দখল নিয়ে মাটি কাটছে। বাধা দিলেও শুনে না। ঘেরের মাঝখানে কিছু মানুষের জমি দখল নিয়েছে। আর মাটি কেটে বাঁধ দেওয়ার ফলে অন্যসব জমিতে বৃষ্টির পানি জমে যাবে। আমরা ধারদেনা করে ফসল করি। এখন জমিগুলোতে আর ফসল ফলানো যাবে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভেকু মালিক লাজুক বলেন, জোরপূর্বক নয়। যাকে যেভাবে দরকার ম্যানেজ করেছি। এই জমিগুলো লিজ নেওয়া। কৃষকরা নিজ ইচ্ছায় লিজ দিয়েছে, তাই ঘের কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসনের বিষয় রিপন ভাই ম্যানেজ করেছে।

এ ব্যাপারে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালাহউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, কৃষিজমির টপসয়েল কাটা বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী অপরাধ। তাছাড়া টপসয়েল কাটা হলে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যায়। এতে ওই জমিতে ফলন হ্রাস পায়। অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।