রাজপথে ত্যাগী নারী নেত্রী মিনা বেগম মিনিকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে দেখতে চায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী

Sanchoy Biswas
সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:১১ অপরাহ্ন, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কৃতি সন্তান ও বিএনপির ত্যাগী নারী নেত্রী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মিনা বেগম মিনিকে নারী সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী।

স্থানীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং দুঃসময়ে দলের পাশে থাকার স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে মহিলা সাংসদ করা উচিত।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় তার চুরি করতে এসে শর্টসার্কিটে প্রাণ গেল চোরের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন অধ্যায় শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ও আকর্ষণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে দলটির প্রার্থী নির্বাচন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যেই সংরক্ষিত আসনে দলের প্রতিনিধি চূড়ান্ত করতে বিএনপির নীতি-নির্ধারণী মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রাপ্ত সাধারণ আসনের ভিত্তিতে বিএনপি জোটের ভাগে এবার ৫০টির মধ্যে ৩৫টি সংরক্ষিত আসন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দলটির নারী নেতৃত্ব বিকাশে এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজপথের ত্যাগী নেত্রী, শিক্ষিত পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং গুম-খুনহওয়া পরিবারের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি 'ভারসাম্যপূর্ণ' তালিকা তৈরির কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী ৭ জনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

ভুমিধস বিজয়ের পরে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। ৪৯ জন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী নিয়ে সরকার চালাচ্ছেন তিনি। এবার সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে কাজ শুরু করেছেন তারেক রহমান। এই সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হতে চায় অ্যাডভোকেট মীনা বেগম। মিনা বেগম বর্তমানে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কর্মরত আছেন।

আরও পড়ুন: উলিপুরে ভোটকেন্দ্র সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, বরাদ্দ ৮৬ লাখ টাকার কাজে প্রশ্ন

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয় না; সংসদে দলগুলোর আসনসংখ্যার অনুপাতে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ফলে দলীয় আস্থা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক অবদান মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপির নারী নেত্রীরা। সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও সহকারী অ্যার্টনী জেনারেল অ্যাডভোকেট মিনা বেগম মিনি।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট মিনা বেগম মিনি- সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিনা বেগম মিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মেয়ে। মিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের গভঃ মডেল হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। তারপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ এ অনার্স এ ভর্তি হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি কলেজ কমিটি ছাত্রদলের সহ ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এল,এল,বি (অনার্স) এবং এল এল এম (মাষ্টার্স অব ল’) করেন প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ঢাকা থেকে। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক। সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদিকা (প্রস্তাবিত), সরকারি কলেজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া (১৯৯৯-২০০২)। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহ ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুব মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (প্রস্তাবিত), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় সংসদ ২০১৫-২০১৬ এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, জাতীয়তাবাদের দল জাজাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ (২০১৫-২০১৬) এর সহ মানবাধিকার সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শহীদ জিয়া আইনজীবী পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদ ২০১৫-২০১৬ এর সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ফোর্স দল (২০১৫-২০১৬) এর সহ আইন বিষয়ক সম্পাদিকা, বাংলাদেশ দরিদ্র উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় সংসদ ২০১৬ এর আইন বিষয়ক সম্পাদক, সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক (প্রস্তাবিত), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম (কেন্দ্রীয় কমিটি), ২০১০-২০১৬ ঢাকা বার ইউনিট এর সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক (প্রস্তাবিত)।

২০১২ সালে ঢাকা জজ কোর্টে তিনি এনরোল হন। ২০১৭ সালে এনরোল হন হাই কোর্ট এ। অ্যাডভোকেট মিনা বেগম মিনি তার জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বহু সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন বিগত দিন গুলোতে। মিনি এর সামাজিক কাজ গুলোর মধ্যে অন্যতম কাজ গুলো হচ্ছে মসজিদ নির্মাণ এ সহযোগিতা করা, অন্ধদের চলাফেরার জন্য লাঠি প্রদান, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে নিয়মিত সহায়তা করা।

এছাড়াও ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

শেখ হাসিনা পতন আন্দোলন করতে গিয়ে মিনি একাধিক মামলার আসামী ও একাধিকবার কারাবরণও করেছিলেন। তিনি রাজপথের সংগ্রাম ও আন্দোলনে বহুবার আহত হয়েছেন। স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনেও তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। রাজপথের প্রতিটি গণআন্দোলনে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। স্বৈরাচার পতনের সংগ্রামে বহুবার আহত হয়েও তিনি রাজপথ ছাড়েননি।

সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মীনা বেগম মিনি জানান, দলের দুঃসময়ে দলকে ছেড়ে যায়নি, প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে উপস্থিত ছিলাম, আমি আশাবাদী দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদিকা। মীনা বেগম মিনি আশা করেন অতীতের রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম এর অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগিয়ে সংসদে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর অঙ্গীকার আইন শৃঙ্খলার উন্নতি, সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার কাজে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করবেন।

মীনা বেগম মিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও উন্নয়ন সংকট কাছ থেকে দেখেছি। জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা আশা করছেন, দলীয় হাইকমান্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে যোগ্য নেত্রী হিসেবে মীনা বেগম মিনিকেই সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়ন দেবেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মীনা বেগম মিনিকে ঘিরে তৃণমূলে যে জনআলোচনা তৈরি হয়েছে, তা আসন্ন সময়ের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি বা লুটপাটের অভিযোগ নেই। তাই তাকে পরিষ্কার ভাবমূর্তির নেত্রী হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নারীর অধিকার, আইন শৃঙ্খলা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও এলাকার উন্নয়নে নিষ্ঠা ও সততার সাথে কাজ করা। আইন পেশা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

এ প্রেক্ষিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণ।

স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, দুঃসময়ের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ এই নেত্রীকে মূল্যায়ন করে নারী কোঠায় সাংসদ মনোনয়ন দেওয়া হলে তা হবে তৃণমূলের প্রত্যাশার প্রতিফলন।

একই সঙ্গে এতে দল যেমন উপকৃত হবে, তেমনি অনুপ্রাণিত হবেন ত্যাগী নারী রাজনীতিকরাও।