হাওরে ধানের বদলে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন কৃষক, বাড়ছে লাভের সম্ভাবনা
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ধান চাষের পরিবর্তে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভুট্টা চাষ। কম খরচ, স্বল্প সময়ে উৎপাদন এবং তুলনামূলক বেশি লাভের কারণে কৃষকদের মধ্যে ভুট্টা চাষের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে আগাম বন্যার ঝুঁকি কম থাকায় কৃষকেরা এই ফসলের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
জেলার নিকলী, মিঠামইন, বাজিতপুর ও অষ্টগ্রামসহ হাওরবেষ্টিত বিভিন্ন উপজেলায় চলতি মৌসুমে ভুট্টার আবাদ বেড়েছে কয়েকগুণ। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধান চাষে অনিশ্চয়তা ও লোকসানের অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে এসে তারা এখন বিকল্প হিসেবে ভুট্টাকে বেছে নিচ্ছেন। বাজারে ভুট্টার ভালো দাম পাওয়াও এই আগ্রহ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
আরও পড়ুন: সিলেটকে ‘ভাইব্রেন্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে :বানিজ্যমন্ত্রী
কৃষকেরা জানান, কয়েক বছর আগেও প্রতি মণ ভুট্টা ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকায়। ফলে কম খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় অনেকেই ধান চাষ কমিয়ে ভুট্টা আবাদে ঝুঁকছেন।
আরও পড়ুন: ফেনীর শহীদ হারুনের পরিবারকে নতুন বাড়ি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ভাষ্য, আগাম বন্যার কারণে প্রায়ই ধান নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ভুট্টা তুলনামূলক কম সময়ে ঘরে তোলা যায়, ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও কম থাকে। এ কারণে গত মৌসুমে যারা ভুট্টা চাষ করে লাভবান হয়েছেন, তারা এবার আরও বেশি জমিতে চাষ করছেন।
নিকলী উপজেলার কৃষক নাদির উদ্দিন বলেন, “গত বছর এক একর জমিতে ভুট্টা করে ভালো লাভ পাইছি। তাই এবার পাঁচ একর জমিতে চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, বাজারদরও সন্তোষজনক। আশা করছি পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারবো, যেখানে খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা।”
সরেজমিনে নিকলী সদর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, খোলা মাঠ, সড়কের পাশ, এমনকি স্কুল-কলেজের মাঠেও ভুট্টা শুকানো, মাড়াই ও বাছাইয়ের কাজ চলছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন এই কাজে।
একই এলাকার কৃষক আলী হোসেন জানান, “এবার চার একর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। বাজারে দাম ভালো থাকায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে প্রায় ৪৫ মণ ভুট্টা বিক্রির আশা করছি। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো লাভ হবে।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় ১১ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৫০৫ মেট্রিক টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল হাসান জানান, “একসময় এই জেলায় ভুট্টা চাষ তেমন ছিল না। তবে বর্তমানে এটি লাভজনক ফসলে পরিণত হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারে চাহিদা ও দাম স্থিতিশীল থাকলে ভবিষ্যতে হাওরাঞ্চলে ভুট্টা চাষ আরও বিস্তৃত হবে এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





