ইরানের সম্পদ ছাড়ার দাবি নাকচ হোয়াইট হাউসের, আলোচনার মধ্যেই নতুন জটিলতা

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৩২ অপরাহ্ন, ১১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৭:৩০ অপরাহ্ন, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

আলোচনার আগে ইরানের শর্ত মেনে জব্দ সম্পদ মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে—এমন দাবি সরাসরি নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস। শনিবার এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রশাসন বলেছে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এই প্রতিক্রিয়া আসে এমন এক সময়ে, যখন ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। চলমান সংলাপের মধ্যেই হোয়াইট হাউসের এই অবস্থান পরিস্থিতিকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে।

আরও পড়ুন: বিশ্বের নজর পাকিস্তানে, লকডাউনে ইসলামাবাদ

এর আগে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের বরাতে জানায়, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সূত্র দাবি করে, এই সম্পদ মুক্তির বিষয়টি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার পর এই অর্থ জব্দ করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির আয় হিসেবে ওই অর্থ সেখানকার ব্যাংকগুলোতে জমা ছিল।

আরও পড়ুন: ৪৬ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ঐতিহাসিক বৈঠক

পরবর্তীতে ২০২৩ সালে কাতারের মধ্যস্থতায় এক বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ কাতারের একটি ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। ওই চুক্তির আওতায় ইরানে আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচ ইরানি নাগরিক মুক্তি পান।

সে সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক খাতে—যেমন খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য—ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত থাকবে এবং তা মার্কিন ট্রেজারির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

তবে একই বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর, যা ইরানের মিত্র হিসেবে বিবেচিত, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন আবারও এই অর্থ জব্দ করে। মার্কিন কর্মকর্তারা তখন জানান, অনির্দিষ্টকালের জন্য ইরান এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না এবং প্রয়োজনে পুরো হিসাব স্থগিত রাখার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে।