নারায়ণগঞ্জে ঝুট ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৩

Sadek Ali
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:১১ অপরাহ্ন, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৩:০১ অপরাহ্ন, ১০ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিসিক শিল্পাঞ্চলের পাশে চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে হামের সংক্রমণ বাড়ছে, আক্রান্ত ২০০

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, “স্থানীয় যুবদলের দুটি পক্ষ এ সংঘর্ষে জড়ায়। একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে একটি কারখানার ঝুট নামিয়ে আসছিল। এ নিয়েই দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জেরে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।”

গুলিবিদ্ধরা হলেন এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব (২৩), বিএনপি কর্মী রফিক (৪০) এবং স্থানীয় বাসিন্দা আসমাউল হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন (১৩)।

আরও পড়ুন: খুলনায় নেশার টাকার জন্য মাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে আটক

আহত ইমরান বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বড় বোন ইশা মনি বলেন, “মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে পেটে গুলি লাগে। অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রক্ত প্রয়োজন হবে।”

অন্য দুই আহত ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদনী হাউজিং এলাকার একটি কারখানার ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী এবং অন্য পক্ষ ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমানের অনুসারী বলে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফতুল্লা থানা যুবদলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদও ঘটনাস্থলে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়েছেন। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান।

অন্যদিকে, মাসুদুর রহমানের পক্ষের হোসেন খোকা দাবি করেন, তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, “আমার ওপর হামলা হলে আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়।”

তবে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি দাবি করেন, বিষয়টি রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যবসায়িক বিরোধের ফল। তিনি বলেন, “কারখানা থেকে ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে হামলা হয়েছে। এতে আমি কোনোভাবে জড়িত নই।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।