দুর্নীতি ও লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ন, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২:৫৯ অপরাহ্ন, ১০ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিগত ১৬ বছরে সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একইসঙ্গে তিনি বলেন, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতও অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আরও পড়ুন: জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আরও ১০টি বিল পাস

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরতেই এ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার অঙ্গীকার করেছে।

তিনি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে ৪.২২ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ১০.৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫১ শতাংশে এবং কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ৫.৭৭ শতাংশ থেকে ৩.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন: সেন্টার ফর সিটিজেনস রাইটস-এর আহ্বায়ক কমিটি গঠন

অর্থমন্ত্রী বলেন, শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় তরুণদের একটি বড় অংশ কৃষি খাতে যুক্ত হচ্ছে, যা ছদ্ম বেকারত্ব বাড়াচ্ছে। বর্তমানে কৃষি খাতে কর্মসংস্থানের হার ৪১ শতাংশ হলেও জাতীয় আয়ে এর অবদান মাত্র ১১.৬ শতাংশ, যা ‘জবলেস গ্রোথ’-এর ঝুঁকি নির্দেশ করে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় সঞ্চয় কমেছে এবং বিনিয়োগে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। ২০০৫-০৬ সালে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল ৬৭.২ টাকা, যা বর্তমানে ১২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে আমদানি ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে।

মুদ্রা সরবরাহ ও ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে কমে ৬.৫ শতাংশে নেমেছে, যা ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকটের ইঙ্গিত দেয়। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং অপচয়ের কারণে সরকারের সম্পদ আহরণ সীমিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাজেট ঘাটতি বেড়ে ৪.০৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যার ফলে জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পায়নি।

ঋণ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০০৫-০৬ সালে সুদ পরিশোধে ব্যয় ছিল ৮৫ বিলিয়ন টাকা, যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। এতে বেসরকারি খাত, বিশেষ করে এসএমই খাতের জন্য ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে পড়েছে এবং অর্থ পাচার ও হুন্ডির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।