নরসিংদীর চরাঞ্চলে কান ধরে ওঠবস করিয়ে ৬ পুলিশ সদস্যকে মুক্তি
নরসিংদীর চরাঞ্চলে পুলিশের একটি দলকে মারধর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ৬ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে কান ধরে উঠবস করে মাফ চাওয়ার পর তারা মুক্তি পান বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৩ মে) দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর–বীরগাঁও–সাতপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ
পুলিশ জানায়, সদর মডেল থানার একটি দল একটি মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে স্পিডবোটে ওই এলাকায় যায়। এ সময় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং তাদের পরিচয় ও অনুমতি ছাড়া এলাকায় প্রবেশের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।
একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে কথাকাটাকাটির জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংঘবদ্ধ কিছু লোক পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন এবং তারা নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
আরও পড়ুন: রাজশাহীর আমের বাজারে বিক্রেতা আছে ক্রেতা নেই
এ ঘটনায় এএসআই নাজমুল হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ৫২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাবিব রহমান হাবি, আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হুমায়ন মোল্লা, আওয়ামী লীগ নেতা মিটল, যুবলীগ নেতা মাইনুউদ্দিন, হুমায়ন, হিমেল, ইসমাইল হোসেন একরাম, ছাত্রলীগ নেতা সাজিদসহ ৫২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
মামলার এজাহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রামকৃষ্ণ দাস, উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান খান, উপপরিদর্শক (এসআই) আল নোমান মুন্সি, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাজমুল হোসেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সুমন মিয়া ও কনস্টেবল হাদিস মিয়া স্পিডবোটে আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাও সাতপাড়া এলাকায় একটি মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেফতার করতে যান। ওই সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব রহমান হাবি, দপ্তর সম্পাদক হুমায়ন মোল্লা, মিটল, যুবলীগ নেতা মাইনুউদ্দিন, হুমায়ন, ছাত্রলীগ নেতা সাজিদসহ বেশকিছু নেতাকর্মী পুলিশের কাজে বাধা দেন। তাদের অনুমতি না নিয়ে গ্রামে ঢোকার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়ান আওয়ামী লীগ নেতারা। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে শতাধিক লোক দলবদ্ধ হয়ে বেরিকেড দিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, ৬ পুলিশ সদস্যকে কান ধরে ওঠবস করান আওয়ামী লীগ নেতারা। পরে মাফ চেয়ে সেখান থেকে মুক্তি পান পুলিশ সদস্যরা। ফেরার সময় পুলিশ সদস্যরা স্পিডবোটে ওঠে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারনের চেষ্টা করেন। তখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা পুনরায় পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত করেন।
পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেফতাররা হলেন- আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাঁও ও সাতপাড়া এলাকার তাহসি বেগম, খোরশেদ মিয়া, রহিম মিয়া ও সোহাগী।
অন্যদিকে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি বলেন, পুলিশ সদস্যরা তদন্ত কাজে সেখানে গিয়েছিলেন এবং কিছু বাধার মুখে পড়েন।
তবে পুলিশ সদস্যদের মারধর বা লাঞ্ছিত করার বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ সুপার তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য না থাকার কথা জানান।
ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।





