খামেনির জানাজা সম্পন্ন, তেহরানে লাখো মানুষের সমাগম
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন কর্মসূচির তৃতীয় দিনে রাজধানী তেহরানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৫ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জানাজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার এবং জানাজা আয়োজন কমিটির প্রধান হাসান হাসানজাদেহ জানান, নির্ধারিত সময়েই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে জনস্রোত, প্রতিশোধের বার্তা ইরানের
ইরানের রাষ্ট্রীয় শোক উপলক্ষে রোববার দেশজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সন্ধ্যায় তার মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা হবে। সোমবার রাজধানীজুড়ে শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার কফিন নেওয়া হবে কোম শহরে, বুধবার ইরাকে এবং বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
জানাজাকে কেন্দ্র করে তেহরানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিপুল জনসমাগমের কারণে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষ সতর্কতাও জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে আবারও মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, ১১ জুলাই বৈঠকের সম্ভাবনা
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার শুরু হওয়া শোক কর্মসূচিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিদেশি অতিথিরা খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শনিবার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে লাখো মানুষ অংশ নেন। ইরানি কর্তৃপক্ষের আশা, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় জনসমাগম হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনি প্রকাশ্যে শোক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন না। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এই শোকানুষ্ঠানকে কেবল ধর্মীয় আয়োজন নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরছে। শনিবারের কর্মসূচিতে কালো পোশাক ও লাল পতাকা হাতে অংশ নেওয়া অনেককে শোক প্রকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।





