জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের অর্জন নয়: প্রধানমন্ত্রী

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:০৮ অপরাহ্ন, ০৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, ০৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সাফল্যকে কোনো একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অর্জন হিসেবে না দেখার আহ্বান। তিনি বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের বীরত্বগাথা এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও মূল্যায়ন দেবে। শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনে যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্র-জনতা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই চেতনাকে সমুন্নত রাখাই সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। আন্দোলনের সময় সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ড ও অন্যায়ের বিচার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিশ্চিত করা হবে। তবে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিচারের নামে যেন কোনো ব্যক্তির প্রতি অবিচার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের প্রাণঘাতী হামলায় তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ

জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতিকে বিভক্ত রেখে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশ ও জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করা।”

তিনি জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: সৌদিগামী ২ ফ্লাইট স্থগিত, যাত্রীদের বিমানবন্দরে যেতে নিষেধাজ্ঞা

বক্তব্যের শেষ অংশে দেশ পুনর্গঠনের পথে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের বিষয়েও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের এই অগ্রযাত্রা যাতে কোনো অপশক্তি বা প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

এ সময় তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার এবং আহতদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সম্মেলনে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সেই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ, আহতদের পুনর্বাসন এবং বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এর আয়োজন করা হয়।