এআই ক্যামেরায় মামলার ভয় দেখিয়ে প্রতারণা, সতর্ক থাকার আহ্বান
রাজধানীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ব্যবস্থা চালুর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নতুন ধরনের প্রতারণায় নেমেছে একটি চক্র। ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে ভুয়া মামলা ও জরিমানার এসএমএস পাঠিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে এআই-নির্ভর ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে। এই ব্যবস্থায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা রেকর্ড হওয়ার তথ্য সামনে আসে। আর সেই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই প্রতারক চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের
ভুক্তভোগীদের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে পাঠানো এসএমএসে দাবি করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মামলা হয়েছে। বার্তায় মামলা নম্বর উল্লেখের পাশাপাশি বিআরটিএর লোগো ব্যবহার করে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংকও দেওয়া হচ্ছে। সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
রোববার (২৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ব্যক্তি এমন এসএমএস পাওয়ার তথ্য শেয়ার করেন। অনেকেই বার্তার সত্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা ইয়াসিন পাটোয়ারীও প্রতারকদের পাঠানো একটি এসএমএসের স্ক্রিনশট ফেসবুকে প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি
ওই বার্তায় দাবি করা হয়, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করায় সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে জরিমানা পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ইয়াসিন পাটোয়ারী বলেন, সরকার কীভাবে এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক মামলা কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে জনসাধারণকে স্পষ্ট ধারণা না দেওয়ায় বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তানভীর হাসান জোহা বলেন, প্রতারণামূলক এসএমএসগুলোর কয়েকটি দিক বিশেষভাবে সন্দেহজনক। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি নম্বর থেকে বার্তা পাঠানো এবং সরকারি ওয়েবসাইটের পরিবর্তে ‘.online’ বা ‘.icu’ ডোমেইন ব্যবহার করা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রকৃত ওয়েবসাইট সাধারণত ‘gov.bd’ ডোমেইনের আওতায় পরিচালিত হয়। শুধু ডোমেইনের মধ্যে ‘govbd’ শব্দ থাকলেই সেটি সরকারি ওয়েবসাইট হয়ে যায় না।
তানভীর হাসান জোহা আরও জানান, প্রতারকরা সাধারণত ভয়ভীতি ও জরুরি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মানুষকে দ্রুত লিংকে প্রবেশ ও পেমেন্ট করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। এতে ব্যবহারকারীদের ব্যাংকিং তথ্য, কার্ড নম্বর, ওটিপি এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি তৈরি হয়।
এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা নোবেল দে জানিয়েছেন, বিআরটিএ বর্তমানে এআইভিত্তিক ট্রাফিক মামলার কোনো অনলাইন জরিমানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। বিআরটিএর নাম ব্যবহার করে কেউ অর্থ আদায়ের চেষ্টা করলে সেটি প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিনও জানিয়েছেন, এআই মামলার বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো এসএমএস পাঠানো হয়নি। ট্রাফিক মামলা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঠিকানায় ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে এবং সরাসরি ট্রাফিক বিভাগে গিয়ে জরিমানা পরিশোধ করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা এ ধরনের এসএমএস পেলে কোনো লিংকে প্রবেশ না করা এবং ব্যক্তিগত বা ব্যাংকিং তথ্য শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সন্দেহজনক বার্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সাইবার অপরাধ দমন ইউনিটকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।





