স্বাধীন ঐক্যবদ্ধ সম্পাদকীয় প্ল্যাটফর্ম গঠনের আহ্বান

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ন, ২১ মে ২০২৬ | আপডেট: ৭:৫৭ অপরাহ্ন, ২১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকরা বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ সম্পাদকীয় প্ল্যাটফর্ম গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পর রাষ্ট্র যখন পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যায়, তখন সমাজের প্রতিটি স্তরে এই পুনর্গঠন জরুরি হয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গণমাধ্যম।

বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় মুক্ত সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করতে যে প্রাতিষ্ঠানিক ও মনস্তাত্ত্বিক বলয় তৈরি করা হয়, তা থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠা সহজ নয়। সরকারি বিধিনিষেধের পাশাপাশি ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ সংস্কৃতি রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। এককভাবে কোনো সম্পাদকের পক্ষে এই ভয়ের দেয়াল ভাঙা কঠিন হলেও সম্মিলিত অবস্থান সাংবাদিকদের সাহস জোগাতে পারে।

আরও পড়ুন: ঈদুল আজহায় সংবাদপত্রে ৫ দিনের ছুটি

সম্পাদকরা বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে অনেক গণমাধ্যমের মালিকানা নির্দিষ্ট কিছু সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। এতে সাংবাদিকতা অনেক ক্ষেত্রে স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে এই করপোরেট ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে সম্পাদকীয় নীতিকে মুক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মতো বিভিন্ন দমনমূলক আইন ব্যবহৃত হয়েছে। ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে এসব আইনের সংস্কার বা বিলোপ প্রয়োজন। এজন্য সব ধারার সম্পাদকদের ঐক্যবদ্ধ ও নিয়মতান্ত্রিক ভূমিকা জরুরি।

আরও পড়ুন: ঢাকা জেলা সাভারে ˆপত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা

সম্পাদকরা বলেন, ঐক্য শুধু অধিকার আদায়ের জন্য নয়, বরং সাংবাদিকতার আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার জন্যও প্রয়োজন। একটি শক্তিশালী ফোরাম গণমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং রাষ্ট্রীয় বা বহিরাগত চাপ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইতিহাসে দেখা গেছে ফ্যাসিবাদের পতনের পরও তার প্রভাব সমাজে রয়ে যায়। তাই গণমাধ্যমের অনৈক্য ভবিষ্যতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। দেশের স্বার্থে সম্পাদকদের ঐক্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘নিরাপত্তা প্রাচীর’ হিসেবে কাজ করবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সম্পাদকরা জানান, এই উদ্যোগ দল-মত নির্বিশেষে সব গণমাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থাকবে। তারা অচিরেই সাংগঠনিক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন- শফিক রেহমান (যায়যায় দিন), মাহমুদুর রহমান (আমার দেশ), সালাহ উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর (নয়াদিগন্ত), আবদুল হাই শিকদার (যুগান্তর), আবু তাহের (বাংলাদেশ প্রতিদিন), মারুফ কামাল খান সোহেল (প্রতিদিনের বাংলাদেশ), হাসান হাফিজ (কালের কন্ঠ), আযম মীর শহীদুল আহসান (সংগ্রাম), মোকাররম হোসেন (নিউনেশন), শফিকুল আলম (ওয়াদা), সৈয়দ মেসবাহ উদ্দীন (বাংলাদেশের খবর), রেজাউল করীম লোটাস (ডেইলি সান), মোস্তফা কামাল (খবরের কাগজ), বেলায়েত হোসেন (ভোরের ডাক), ওবায়দুর রহমান শাহীন (জনতা), মো. শহিদুল ইসলাম (মানবকন্ঠ), মো. সায়েম ফারুকী (রূপালী বাংলাদেশ), মনির হোসেন (খোলা কাগজ), ইলিয়াস খান (টাইমস অফ বাংলাদেশ), মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব (বাংলাবাজার পত্রিকা), শেখ নজরুল ইসলাম (খবর সংযোগ), আবুল কাশেম মজুমদার (ক্যাপিটাল নিউজ), ব্যারিস্টার মো. মারুফ ইব্রাহীম আকাশ (খবরপত্র), শামসুল হক দুররানি (নওরোজ), শাহাদাত হোসেন শাহীন (গণমুক্তি), আফসার উদ্দিন চৌধুরী (কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম), সোহেল মাহবুব (নতুন প্রভাত, রাজশাহী), মাহবুবা পারভিন (অনির্বাণ, খুলনা), শান্তনু ইসলাম সুমিত (লোকসমাজ, যশোর) খন্দকার মোস্তফা সরোয়ার অনু (দাবানল, রংপুর), মততাজ শিরিন ভরসা (যুগের আলো, রংপুর), আশরাফুল হক (প্রবাহ, খুলনা), মুকতাবিস উন নূর (জালালাবাদ, সিলেট), সাইফুল ইসলাম (নিউ টাইমস, ময়মনসিংহ) ও আজাদ আলাউদ্দিন ( বাংলাদেশ বাণী, বরিশাল)।