ব্রিটিশ কাউন্সিলের নতুন অবস্থানপত্র, ভাষা সংবেদনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর
শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক ভাষাগত বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য ও কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ করেছে নতুন একটি বৈশ্বিক অবস্থানপত্র, যেখানে ‘ভাষা সংবেদনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অবস্থানপত্রে শিক্ষায় ভাষানীতি ও ভাষা ব্যবহারের বিষয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব ও ব্যবহার বাড়লেও সব দেশের জন্য একই ধরনের ভাষানীতি কার্যকর হতে পারে না। বরং প্রতিটি দেশের ইতিহাস, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রমাণভিত্তিক ও প্রেক্ষাপটনির্ভর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: জবির ক্লাসকক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় টিকটক, বহিষ্কার ২ নবীন শিক্ষার্থী
ব্রিটিশ কাউন্সিল জানিয়েছে, বিশ্বের বহু দেশে শিক্ষার্থীরা বহুভাষিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের ভাষা তাদের ঘরের ভাষা থেকে আলাদা হয়। ফলে শিক্ষা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানে ইংরেজির গুরুত্ব থাকলেও স্থানীয় ভাষাগত বাস্তবতাকে উপেক্ষা করলে শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
নতুন অবস্থানপত্রের কেন্দ্রীয় ধারণা হলো ‘ভাষা সংবেদনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা’। এ ধরনের ব্যবস্থায় ভাষাকে শুধু একটি বিষয় হিসেবে নয়, বরং শেখার মৌলিক উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নীতিনির্ধারণ, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, শিক্ষাসামগ্রী, মূল্যায়ন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ—শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে ভাষাগত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: সংবাদ প্রকাশে বাঁধা, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়ের নেতৃত্বে সাংবাদিককে মারধর
এতে আরও বলা হয়েছে, শুধু কোন ভাষায় পাঠদান করা হবে সেটিই মুখ্য নয়; বরং শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য কতটা সহায়ক শেখার পরিবেশ তৈরি করতে পারছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
যেসব দেশে ইংরেজির মাধ্যমে পাঠদান করা হয়, সেখানে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় শক্ত ভিত্তি তৈরি, পাঠ্যক্রম বুঝতে প্রয়োজনীয় ভাষাগত দক্ষতা অর্জন এবং একই সঙ্গে তাদের মাতৃভাষা বা পরিচিত ভাষার ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাষা সংবেদনশীল শিক্ষণপদ্ধতিতে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, সহজলভ্য শিক্ষাসামগ্রী এবং শিক্ষার্থীদের ভাষা বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অবস্থানপত্র তৈরির অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশে ইংরেজি শেখানো এবং ইংরেজির মাধ্যমে পাঠদানের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তৃত বৈশ্বিক গবেষণা ও লিটারেচার রিভিউ পরিচালনা করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করে শিক্ষকদের ভাষাগত দক্ষতা, শিক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ভাষানীতির সামঞ্জস্যের ওপর।
এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া ইংরেজিমাধ্যমে পাঠদান চালু করলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই ইতিবাচক শিক্ষণ ফলাফল নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষাখাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অবস্থানপত্র প্রকাশ উপলক্ষে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ইংরেজি ও স্কুল শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মাইকেল কনোলি বলেন, “শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভাষা। শিক্ষা ব্যবস্থা যখন শিক্ষার্থীদের ভাষাগত বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেয় এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়, তখন শ্রেণিকক্ষ আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং শেখার পরিবেশ উন্নত হয়।”
তিনি আরও বলেন, প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এমন ভাষানীতি গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিতে বাধা না হয়ে বরং সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের মতে, এই অবস্থানপত্র নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক দলিল হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দক্ষতানির্ভর ভাষানীতি গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।





