মিরপুরে অবৈধ বস্তি উচ্ছেদে গিয়ে হামলার মুখে পুলিশ, আহত ৭

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ন, ২০ মে ২০২৬ | আপডেট: ৫:৩২ অপরাহ্ন, ২০ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে একটি উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অভিযান চলাকালে বস্তিবাসীদের আকস্মিক হামলার মুখে পড়েন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। বুধবার (২০ মে) মিরপুরের ইসিবি-কালশী রোডে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় উচ্ছেদ অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ দুপুরে বাউনিয়াবাদ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। বস্তিবাসীদের জন্য ৫৩৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের পশ্চিম পাশে সরকারি জমি এবং ১১ নম্বর সেক্টরের ঘ ব্লকে পুনর্বাসন জোনের তিন রাস্তার মোড়ে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রটেকশন অ্যান্ড অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) ফোর্সের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: এশিয়ান হাইওয়েতে চাপ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট

আরও জানানো হয়, অভিযান শুরুর পরপরই স্থানীয়রা একজোট হয়ে বাধা দেয়। একপর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশকে লক্ষ্য করে চারপাশ থেকে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছোড়া হয়। আচমকা ওই হামলায় বাহিনীর ২ নারী সদস্যসহ সাতজন আহত হন। তাদেরকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, হামলার পেছনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ‘উস্কানিমূলক বক্তব্যের’ অভিযোগ তুলেছেন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই এলাকা পরিদর্শনে যান ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেন। সেখানে তিনি উস্কানিমূলক কথা বলেন। এর পরপরই মূলত পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: সড়কে এআই ক্যামেরা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব

মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোশতাক বলেন, উচ্ছেদ অভিযানে এখন ‘ব্রেক টাইম’ (বিরতি) চলছে। আবার শুরু হবে কিনা তা ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ তো আর উচ্ছেদ করছে না। পুলিশ কেবল নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু তারা (দখলদাররা) এলোপাতাড়ি ঢিল ছুড়েছে।

পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর উচ্ছেদ অভিযান ফের শুরু হবে কিনা তা নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈঠক চলছে।