সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই
সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৫ মে) রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবদুস সালাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই তারা মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুর খবর পান। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে বিএনপি একজন অভিভাবককে হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আজই তার মরদেহ দেশে আনা হতে পারে। পরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ডহুরী এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: জিয়া উদ্যানের লেকে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করলেন তারেক রহমান
রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তাকে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়।
এর আগে ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে দলীয় কার্যক্রমে আবারও সক্রিয় হন।
আরও পড়ুন: ইসির সঙ্গে জামায়াতের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরে তার পরিবর্তে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল সালাম আজাদকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। একই সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার বাবা হামিদুর রহমান সিনহা এবং মা নূরজাহান সিনহা। তাদের পারিবারিক বাসভবন ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত।
শৈশবে কলকাতায় বেড়ে ওঠা মিজানুর রহমান সিনহা পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়। বাবার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে তিনি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান একমি গ্রুপে যোগ দেন। ১৯৮৩ সাল থেকে একমি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং দানশীলতার জন্যও এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা।
তার মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোক প্রকাশকারীদের মধ্যে রয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনসহ আরও অনেকে।





