শরীরে এই ৭ পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

Any Akter
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ন, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৭:১৩ অপরাহ্ন, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বুকে ব্যথা, হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি বা বাকশক্তি হারানো কিংবা পেটে তীব্র ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেকেই জানেন। তবে শরীরে এমন কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে, যেগুলো শুরুতে তেমন গুরুতর মনে না হলেও কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া থেকে শুরু করে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা চোখে আলোর ঝলকানি—এ ধরনের কিছু উপসর্গ নিয়মিত হলে বা হঠাৎ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

১. কারণ ছাড়া ওজন কমে যাওয়া

আরও পড়ুন: কম বয়সেই চুল পড়ছে? যে কারণগুলো দায়ী হতে পারে

খাবার বা ব্যায়ামের ধরনে কোনো পরিবর্তন না এনেও ওজন কমতে থাকলে এর পেছনে স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে। অতিসক্রিয় থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, বিষণ্ণতা, লিভারের রোগ, ক্যান্সার কিংবা শরীরে পুষ্টি শোষণে সমস্যার কারণে এমনটি হতে পারে।

গত ৬ থেকে ১২ মাসে চেষ্টা ছাড়াই শরীরের ওজনের ৫ শতাংশের বেশি কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: থাইরয়েড ঠিকমতো কাজ করছে না, শরীরে দেখা দিতে পারে যে ৯ লক্ষণ

২. একটানা বা বেশি জ্বর

জ্বর সাধারণত শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি প্রতিক্রিয়া। তবে দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের সঙ্গে কাশি, ক্লান্তি বা অন্যান্য উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। মূত্রনালির সংক্রমণ থেকে যক্ষ্মাসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে জ্বর হতে পারে। কিছু ওষুধের কারণেও জ্বর দেখা দিতে পারে।

শরীরের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তার বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

৩. শ্বাসকষ্ট

কঠোর ব্যায়াম, অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা, স্থূলতা কিংবা বেশি উচ্চতায় অবস্থানের কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তবে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই শ্বাসকষ্ট হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। বিশেষ করে হঠাৎ ও তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত। অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, সিওপিডি, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যা কিংবা ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার কারণেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

৪. মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন

মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাস ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তবে অস্বাভাবিক ও ব্যাখ্যাতীত পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে—

মলে রক্ত থাকা বা মল কালো/আলকাতরার মতো হওয়া

দীর্ঘদিন ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য থাকা

সহজে না কমা পেটব্যথা

এসব উপসর্গ সংক্রমণ, ইরিটেবল বাওয়েল ডিজিজ কিংবা কোলন ক্যান্সারের মতো বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

৫. বিভ্রান্তি বা ব্যক্তিত্বে পরিবর্তন

হঠাৎ চিন্তাভাবনায় দুর্বলতা, মনোযোগ বা একাগ্রতায় সমস্যা কিংবা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এ ধরনের পরিবর্তনের পেছনে সংক্রমণ, পানিশূন্যতা, অপুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে।

৬. অল্প খেলেই পেট ভরে যাওয়া

স্বাভাবিকের তুলনায় খুব অল্প খাবার খাওয়ার পরই পেট ভরে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এ অবস্থাকে ‘আর্লি স্যাটাইটি’ বলা হয়। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব, বমি, পেট ফাঁপা কিংবা ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকতে পারে। জিইআরডি ও পেপটিক আলসারের মতো সমস্যার কারণে এমন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগও এর কারণ হতে পারে।

৭. চোখে আলোর ঝলকানি

চোখের সামনে হঠাৎ উজ্জ্বল দাগ বা আলোর ঝলকানি দেখা কখনো মাইগ্রেনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে হঠাৎ আলোর ঝলকানি চোখের রেটিনায় গুরুতর সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে। রেটিনাল ডিটাচমেন্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা না নিলে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই হঠাৎ এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চোখের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মনে রাখা জরুরি: এসব উপসর্গের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে উপসর্গের ধরন, স্থায়িত্ব ও তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।