যানজট কমেছিল, এখন ফিরছে আগের চিত্র
হকারমুক্ত করার পর আবার দখলে যাত্রী ছাউনির সামনের জায়গা
ঢাকার আশুলিয়ার ডিইপিজেড-ভাদাইল আঞ্চলিক সড়কের মুখে একসময় হকারদের দখল ও যানজটে নাকাল ছিলেন পথচারী ও যাত্রীরা। স্থানীয় উদ্যোগে কয়েকটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ এবং সড়কের পাশে বসা দোকানপাট সরিয়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। তবে সেই সুফল বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
এখন আবার যাত্রী ছাউনির সামনে ও আশপাশের জায়গায় অস্থায়ী দোকান বসতে শুরু করেছে। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে যাত্রীদের চলাচল ও অপেক্ষার জায়গা। পাশাপাশি বাড়ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিইপিজেড-ভাদাইল আঞ্চলিক সড়কের মুখে পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর ঘেঁষা জায়গাটি দীর্ঘদিন হকারদের দখলে ছিল। সড়কের পাশে দোকানপাট বসানো এবং এলোমেলোভাবে যানবাহন থামানোর কারণে ওই এলাকায় প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হতো। বিশেষ করে পোশাক কারখানাগুলো ছুটির সময় যানজট তীব্র আকার ধারণ করত।
এ পরিস্থিতিতে ভাদাইল প্রাইমারি ফ্রেন্ডস ক্লাবের উদ্যোগে আলহাজ্ব মো. ইসরাফিল হোসেনের নেতৃত্বে নিজেদের অর্থায়নে কয়েকটি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়। একই সঙ্গে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, এসব উদ্যোগের ফলে কিছুদিনের জন্য ওই সড়কে যানজট কমে আসে এবং যাত্রী ও পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরে আসে।
আরও পড়ুন: হরিরামপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন
তবে সম্প্রতি ওই জায়গায় আবারও অস্থায়ী দোকান বসতে শুরু করেছে। যাত্রী ছাউনির সামনে, পাশে ও প্রবেশপথের কাছাকাছি বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে বসছেন হকাররা। ফলে ছাউনিতে প্রবেশ, বসা কিংবা দাঁড়িয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে সমস্যায় পড়ছেন যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু যাত্রী ছাউনির জায়গাই নয়, এর আশপাশের সড়কের জায়গাও ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাচ্ছে। দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড় এবং সড়কের পাশে যানবাহন থামিয়ে রাখার কারণে তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ। এতে ব্যাহত হচ্ছে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজান বলেন,আগে পাঁচ মিনিটের রাস্তা পার হতে তিন ঘণ্টাও লেগেছে। ইসরাফিলের নেতৃত্বে এলাকাবাসী একসময় উদ্যোগ নিয়ে সড়কের যানজট কমিয়েছিল এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়েছিল। কিন্তু এখন আবার আগের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
পোশাকশ্রমিক ফাতেমা বলেন, শুনেছি, যাঁরা আগে রাস্তা যানজটমুক্ত করেছিলেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। পরে তাঁদের কাছ থেকে দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের নেতারা নিয়েছেন। তাই আবার আগের মতো যানজট হচ্ছে।
আরেক পোশাকশ্রমিক মরিয়ম বলেন, যাত্রীদের সুবিধার জন্য নির্মিত ছাউনির সামনেই যদি আবার দোকান বসে, তাহলে এসব ছাউনি নির্মাণের উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত হবে? যাত্রী ছাউনির জায়গা দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে বসা দোকানপাট সরিয়ে পথচারী ও যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক করা দরকার।
যাত্রী ছাউনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত আলহাজ্ব মো. ইসরাফিল হোসেন বলেন,এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ভাদাইল প্রাইমারি ফ্রেন্ডস ক্লাবের উদ্যোগে নিজেদের অর্থায়নে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করেছি। নিরাপত্তাকর্মী রেখে সড়কের শৃঙ্খলাও ফিরিয়েছিলাম। কিন্তু এখন বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, এসব এলাকায় হকার উচ্ছেদের পরিকল্পনা রয়েছে। বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ জেলার নয়ারহাট শাখার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নুরে আলম বলেন,আমি লোক পাঠিয়ে পরিস্থিতি দেখে আসি। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





