ধ্বংসস্তূপের নিচে দুই দিন, জীবিত উদ্ধার ৫ বছরের মানিশা
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার দুই দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া পাঁচ বছরের শিশু মানিশা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়েছে। বর্তমানে কাঠমান্ডুর টিচিং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বিবিসিকে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মানিশা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন: নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত বেড়ে ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি
রাসুয়া জেলার সিয়াব্রুবেসির কাছে উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে খুঁজছিলেন উদ্ধারকর্মীরা। এ সময় তারা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে একটি শব্দ শুনতে পান। প্রথমে তাদের ধারণা হয়, সেখানে একটি বিড়াল আটকে থাকতে পারে।
নেপালের আর্মড পুলিশ ফোর্সের কর্মকর্তা সঞ্জু খাত্রি জানান, শব্দের উৎস খুঁজতে উদ্ধারকারী দল ওই এলাকায় তল্লাশি শুরু করে এবং ধ্বংসাবশেষ সরাতে থাকে। একপর্যায়ে তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে মানিশাকে দেখতে পান। শিশুটিকে উদ্ধারে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। পরে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে মানিশাকে জীবিত উদ্ধারের দৃশ্য দেখা যায়।
আরও পড়ুন: মুসলিম নেতাদের মোজতবা খামেনি: 'প্রকৃত শত্রু' শনাক্ত করুন
উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারের সময় শিশুটি জীবিত থাকলেও খুব সামান্য নড়াচড়া করতে পারছিল। তাকে দ্রুত সরিয়ে নিতে একটি হেলিকপ্টারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তখন তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরানো সম্ভব হয়নি।
পরে উদ্ধারকারীরা মানিশাকে বাহিনীর একটি উদ্ধার শিবিরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে পানি পান করানো হয়। কিছুক্ষণ পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। চেতনা ফেরানোর পর তাকে সেদ্ধ ভাতের মাড় খাওয়ানো শুরু করা হয়।
দুই দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার ঘটনায় শিশুটি মানসিকভাবেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরদিন শনিবার বিকেলে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে হেলিকপ্টারে করে মানিশাকে কাঠমান্ডুর টিচিং হাসপাতালের শিশু জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
রোববার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মানিশার শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং সে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। পরে বাবা-মায়ের সঙ্গে তার পুনর্মিলন ঘটে। ভয়াবহ বন্যা ও ধসের মধ্যে দুই দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর শিশুটির জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনা উদ্ধারকারীদের কাছেও স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে।





