ঢাকার প্রধান সড়কে নিষিদ্ধ ই-রিকশা

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৪০ অপরাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৬:৪০ অপরাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত ও ইলেকট্রিক অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের জন্য সর্বোচ্চ চার যাত্রী বহনকারী ই-রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন পাবে না।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমানের সঙ্গে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

আরও পড়ুন: ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য আলাদা লেন ও চার্জিং স্টেশনসহ ৬ দাবি

প্রতিমন্ত্রী জানান, ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে দ্রুত নীতিমালাটি জারি করা হবে। তিনি বলেন, নীতিমালা কার্যকর হলে ই-রিকশা ও ইলেকট্রিক রিকশাগুলো একটি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে আসবে।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় ই-রিকশা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ১৪ ‘পিংক বাস’ দিয়ে শুরু, নারীদের জন্য আসছে আরও ১০০ ই-বাস

এর পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো ই-রিকশাকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এসব যানবাহনের নিবন্ধন দেবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনুমোদিত নকশা ও প্রয়োজনীয় ফিটনেস সনদ নিশ্চিত করার পরই নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হবে।

ই-রিকশার চার্জিং ব্যবস্থা নিয়েও নীতিমালায় শর্ত রাখা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ই-রিকশা চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং ভবিষ্যতে তা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। চার্জিং গ্যারেজ বা পয়েন্টের জন্যও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন অথবা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।

যত্রতত্র ই-রিকশা তৈরির কারখানা গড়ে ওঠা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এসব কারখানার সুনির্দিষ্ট হিসাব সরকারের কাছে নেই বলেও জানান তিনি।

নীতিমালার আওতায় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে। বুয়েট বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি উৎপাদনকারী কারখানাকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নিতে হবে এবং নিবন্ধিত কোম্পানি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

ঢাকা শহরে ই-রিকশা চলাচলের জন্য উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলিয়ে মোট আটটি জোন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চারটি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারটি জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের জন্য আলাদা রং নির্ধারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এক জোনের নিবন্ধিত ই-রিকশা যাতে অন্য জোনে যেতে না পারে, সে ব্যবস্থাও করা হবে। এ জন্য জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। কোন ই-রিকশা কোন রুটে চলবে, তা সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে নির্ধারণ করবে।

প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ঢাকার প্রধান সড়কে ই-রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এসব যান অভ্যন্তরীণ সড়কে জোনভিত্তিক চলাচল করতে পারবে।

প্রধান সড়কে পৃথক রিকশা লেন তৈরি ও যাত্রী ওঠানামার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মূল সড়কে ই-রিকশা চলাচল বন্ধ রাখার পরিকল্পনাই নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা শহরে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ই-রিকশার যাত্রী ধারণক্ষমতাও নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। দুই ও চার যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ পাবে।

অন্যদিকে ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশাকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে না। তবে গ্রামীণ এলাকা ও জেলা শহরের গ্রামীণ সড়কে দুই, চার ও ছয় যাত্রী বহনকারী ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

ঢাকায় নিবন্ধনের জন্য ই-রিকশাগুলোকে অবশ্যই বুয়েট বা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়িত নকশা অনুযায়ী তৈরি হতে হবে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আশা প্রকাশ করে বলেন, নীতিমালাটি জারি হলে ই-রিকশা চলাচল ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা সম্ভব হবে।