ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য আলাদা লেন ও চার্জিং স্টেশনসহ ৬ দাবি

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪৬ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীসহ সারাদেশে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা ও স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পার্কিং ব্যবস্থা এবং চার্জিং স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছে ‘রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি ছয় দফা দাবি তুলে ধরে।

দাবি আদায়ে আগামী সেপ্টেম্বরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ১৪ ‘পিংক বাস’ দিয়ে শুরু, নারীদের জন্য আসছে আরও ১০০ ই-বাস

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এলজিআরডি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সারাদেশে রিকশা, ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

খালেকুজ্জামান লিপনের অভিযোগ, সরকারের ওই পরিকল্পনা থেকে উৎপাদন, চার্জিং, লাইসেন্স ও চলাচলের বিষয়গুলো ব্যবসায়িকভাবে পরিচালনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে এসব যানবাহন জিম্মি হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: আজ থেকে রাজধানীতে চালু নারীদের জন্য পিংক বাস সার্ভিস

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে যানজট, দুর্ঘটনা ও লোডশেডিংয়ের জন্য দায়ী করা হলেও কেন বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব যান চালান এবং সাধারণ মানুষ কেন এগুলো ব্যবহার করেন, সেই বাস্তব কারণগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না। তীব্র বেকারত্বের কারণে অনেকে রিকশা চালানোর পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে সহজ ও সাশ্রয়ী বিকল্প না থাকায় যাত্রীরাও এসব যানবাহন ব্যবহার করছেন।

লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণত রাত ১০টার পর লোডশেডিং তুলনামূলক কম থাকে এবং ওই সময়ই অনেক ক্ষেত্রে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। তাই অপপ্রচারের পরিবর্তে সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংগ্রাম পরিষদের দাবি, গত ১৩ বছর ধরে তারা যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং চালক-যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিআরটিএর অধীনে রিকশা ও ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে। আন্দোলন করতে গিয়ে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও দিনাজপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা মামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। তবে এখনো কোনো সমন্বিত নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তারা।

সংগ্রাম পরিষদের ছয় দফা দাবি

১. প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন ও রুট পারমিটের আওতায় এনে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য একটি সমন্বিত নীতিমালা ও বিধিমালা চূড়ান্ত করা এবং স্থানীয় অটোমোবাইল শিল্প রক্ষা করা।

২. স্থানীয় উৎপাদকদের সরকারি অনুমোদিত ডিজাইনে ই-রিকশা উৎপাদন ও বিপণনের অনুমতি দেওয়া এবং স্থানীয় মেকানিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেটকে সুবিধা না দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

৩. দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পার্কিং ও চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া।

৪. লাইসেন্স, নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার বাধ্যতামূলক শর্ত প্রত্যাহার করা।

৫. দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহন সরকার অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী সংশোধন বা পরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে দুই বছর সময় দেওয়া।

৬. যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রতিটি মহাসড়কে স্বল্পগতির বা স্থানীয় যানবাহনের জন্য পৃথক লেন অথবা সার্ভিস রোড নির্মাণ করা।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা করা হলে একদিকে চালকদের জীবিকা এবং সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাড়ানো যাবে।