নেপালে আবারও বড় বন্যার শঙ্কা, উজানে আটকে আছে পানি

Any Akter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৫:০৭ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার পর নতুন করে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে উজানে পানিপ্রবাহে একটি বাধা এখনো রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। সেটি ভেঙে গেলে শক্তিশালী ঢেউ ও দ্বিতীয় দফার বন্যা সৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন সংস্থা আইসিআইএমওডি এ সতর্কবার্তা দিয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ভোতে কোশি অববাহিকায় হঠাৎ পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পরে তীব্র স্রোত ত্রিশূলী নদীর দিকে নেমে আসে। পানির সঙ্গে পলি, পাথর ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষও ভেসে যায়।

আরও পড়ুন: নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ ১,৩৮৪, নিহত ১৬৫

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায় নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধির হার থেকে। গালচিতে মাত্র ৩০ মিনিটে ত্রিশূলী নদীর পানি প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়। একই সময়ে মালেখুতে পানি বাড়ে প্রায় ৭ মিটার।

বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক ধারণা, উঁচু পাহাড়ি এলাকায় বড় ধরনের বরফ ও পাথরের ধস থেকে বিপর্যয়ের সূত্রপাত হতে পারে। প্রাথমিক ভিডিও ও ঘটনাস্থলের পর্যবেক্ষণে লহেন্দে খোলায় বিপুল বরফ ও পাথরের ধ্বংসাবশেষ জমে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ ৪০৩

এ ছাড়া ধ্বংসাবশেষ নদীর সংকীর্ণ অংশ আটকে সাময়িক প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি করে থাকতে পারে। সেখানে পানি জমে ওই বাঁধ ভেঙে গেলে আকস্মিকভাবে বিপুল পানি ভাটির দিকে নেমে দ্বিতীয় দফায় বড় বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।

আইসিআইএমওডির জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান চিয়াংগং ঝাং বলেন, গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একই এলাকা আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। লহেন্দে খোলায় বরফধসকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। উজানে বাধা থাকায় দ্বিতীয় দফার বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।

আইসিআইএমওডি জানিয়েছে, জিলং বন্দরের আশপাশের এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুয়া ছাড়াও নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার ভাটির দিকের পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বন্যায় অবকাঠামো ও পানি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদী উপত্যকার বসতিগুলোও এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার সময় অস্বাভাবিক ভূকম্পনসংক্রান্ত সংকেত শনাক্ত হয়েছে জিলং ও ঝাংমুর দুটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে। তবে এসব সংকেতের সঙ্গে বন্যার সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিত নয়।

আইসিআইএমওডির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে বরফ, হিমবাহ, তুষারভূমি ও পাহাড়ি ঢালের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটলেও এই নির্দিষ্ট বন্যায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঠিক কতটা ভূমিকা ছিল, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

এখন উজানে তৈরি হওয়া বাধাটি কতটা স্থিতিশীল, সেটিই বিজ্ঞানীদের প্রধান উদ্বেগ। স্যাটেলাইট চিত্র, নদীর পানিপ্রবাহ ও ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফলে ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের জন্য দুর্যোগের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। সূত্র: এনডিটিভি