সাগর-রুনি হত্যা মামলায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তির যোগসূত্রের ক্লু: চিফ প্রসিকিউটর
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন ব্যক্তির যোগসূত্রের একটি ক্লু পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি তিনি।
রোববার (৩০ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এ তথ্য জানান।
আরও পড়ুন: সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের ৫ দিনের রিমান্ড
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত তাঁদের তদন্ত সংস্থা করছে না। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন। তবে অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একটি ক্লু পাওয়া গেছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘সাগর-রুনির মামলার তদন্ত আমাদের তদন্ত সংস্থা করছে না। এটি অন্য সংস্থা পিবিআই করছে। তবে আমরা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কোনো কোনো সময় ক্লু পেয়ে যাই। যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মেজর মোজাফফরের ব্যাপারে কিছুটা ক্লু পেয়েছিলাম। সাগর-রুনির বিষয়েও আমরা একটি ক্লু পেয়েছি। সেটার নাম-পরিচয় এখন প্রকাশ করতে পারছি না।’
আরও পড়ুন: দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস
তিনি আরও বলেন, ‘তবে এটুকু বলতে পারি, একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের একটি কানেকশন পাওয়া যাচ্ছে। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখছি। তার ওপর আমাদের নজরদারি রয়েছে। আরও তদন্তের পর যদি কোনো অথেনটিক তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করব।’
চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি এখনো যাচাই-বাছাই ও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ বা সংশ্লিষ্টতার সিদ্ধান্ত এখনো দেওয়া হয়নি।
এদিকে, সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আবারও পিছিয়েছে। গত ২৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিন তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
পরে আদালত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন। এর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯ বার পেছাল।
সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি খুন হন। দীর্ঘদিন মামলাটি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) তদন্তাধীন ছিল।
বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলাটির তদন্তে একটি টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। বর্তমানে পিবিআই মামলাটির তদন্ত করছে।
চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যে নতুন একটি সম্ভাব্য তদন্ত-সূত্রের কথা উঠে এলেও সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পিবিআইয়ের তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।





