বিধ্বংসী বন্যার আশঙ্কা

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নতুন করে উপচে পড়ল হ্রদ, প্রাণে বাঁচতে ফের ছুটছে মানুষ

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩৩ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভূমিধসের ফলে তৈরি কৃত্রিম হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করায় ভাটি অঞ্চলে নতুন করে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সীমান্তবর্তী দুই দেশেই সাময়িকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নেপালের রাসুয়া জেলা ও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন।

হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের জলচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় চীনের সব উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় যানবাহন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। নেপাল অংশেও উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

আরও পড়ুন: বন্যা-হিমবাহধসের পর তিব্বতে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

চীনা প্রকৌশলীদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার হ্রদটিতে জমে থাকা পানির পরিমাণ প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটারে পৌঁছেছে। আগের দিনের তুলনায় এই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে ড্রোনের মাধ্যমে হ্রদের ত্রিমাত্রিক নকশা তৈরি করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে চীনের একটি বিশেষজ্ঞ দল।

গত বুধবার হিমবাহ ধসের পর পাহাড়ি নদী দিয়ে কাদা, পাথর ও বরফের প্রবল স্রোত নেমে আসায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় এক হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ৩৭ সুদানি অভিবাসীর মৃত্যু

আকস্মিক বন্যায় কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, কালভার্ট ও পাকা সেতু ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নেপালের রাসুয়া জেলার জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার জানান, হ্রদের পানি বাড়তে থাকায় স্থানীয় জনপদগুলোতে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী এলাকায় পানির উচ্চতা ক্রমাগত বাড়ছে।

অন্যদিকে, চীনের জিরং কাউন্টিতে ধ্বংসস্তূপ জমে থাকায় শুক্রবার পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি দেশটির উদ্ধারকর্মীরা। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের ওই এলাকায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ২৬০ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

হিমালয় অঞ্চলের ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের জরুরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরিস্থিতিকে অভূতপূর্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে।