দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০৭ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১:৫৫ অপরাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দায়ের করা ১৫টি মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় দেন।

আরও পড়ুন: প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার বিদিশা সিদ্দিক আদালতে

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রিতে দুর্নীতির অভিযোগে মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনকে আসামি করে পৃথক ১৫টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে প্রতিটি মামলায় আসামি করা হয়। অপর আসামিরা হলেন—এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলম।

এ ছাড়া আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দুটি মামলায়, আহমেদ আকবর সোবহানকে দুটি মামলায় এবং মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ ও আলী হায়দার চৌধুরীকে পৃথক মামলায় আসামি করা হয়। এসব মামলায় তারাও খালাস পেয়েছেন।

আরও পড়ুন: মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা মামলার রায় পিছিয়েছে, নতুন দিন সোমবার

২০০৭ সালের ২৯ মার্চ মামলাগুলো দায়ের করে দুদক। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশান, ধানমন্ডি ও শান্তিনগরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় থাকা মোট ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে নিলাম দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজউকের মাধ্যমে সাজানো দরপত্রে কারচুপি ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের বাড়িগুলো পাইয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আসামিরা নিজেরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকার আর্থিক ক্ষতি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে দ্য বাংলাদেশ অ্যাবানডন্ড প্রপার্টি (কন্ট্রোল, ম্যানেজমেন্ট ও ডিসপোজাল) অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী সরকারি বাড়িগুলো বিক্রির ব্যবস্থা না করে প্রভাবশালীদের লাভবান করার উদ্যোগ নেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দেওয়া বেশি মূল্যের দর প্রস্তাব বিবেচনায় না নিয়ে রাজউকের মাধ্যমে কম মূল্যের সাজানো দরপত্রের ভিত্তিতে বাড়িগুলো বিক্রির অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।

মামলার অভিযোগে মির্জা আব্বাসসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।